দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর অবশেষে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে সই জাল কাণ্ডে হাজিরা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সূত্রের খবর, তিনি রেজোলিউশন কপিকে ঘিরে সমস্ত প্রশ্নের জবাবেই বলেছেন “জানি না”। এখানেই শেষ নয়, একটা সময়ে তিনি মেজাজও হারান। এরপর রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বেরিয়ে তিনি যান কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানে বৈঠক শেষে তিনি ছাতায় মুখ লুকিয়ে যান নিজের বাড়িতে।
সই জাল কাণ্ডের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২১ দিনের রক্ষাকবচ দেওয়া হলেও আদালতের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় সন্ধ্যে ছটার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার। সেই মতো তিনি কলকাতা ফেরেন। তবে বিমানবন্দরে তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। প্রথমে তিনি যান কালীঘাটের বাড়িতে। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর রওনা দেন ভবানী ভবনের উদ্দেশ্য।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে সন্ধ্যা ৬টার আগে সিআইডি দপ্তরে যাওয়ার পর প্রথমে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ৬-৭ জন আধিকারিক। তারপর সেই সংখ্যা বেড়ে গিয়ে হয় ১০। তাঁরা তাঁকে ম্যারাথন জেরা করেন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকারও। জানা গিয়েছে, নানা কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে ডায়মন্ড হারবার সাংসদকে। জানা যাচ্ছে যে বেশিরভাগ প্রশ্নের জবাবেই তিনি নাকি বলেছেন তিনি জানেন না এবং মেজাজও হারিয়েছেন। অভিষেকের উত্তরে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে রবিবার। তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে রেজোলিউশনকে কেন্দ্র করে একাধিক নথি নিয়ে।
ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চলে যান সোজা কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানে একটি বৈঠক হয়, যাতে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক প্রবীণ নেতারা। রাত ১২টা ১০ নাগাদ তিনি বেরোন দলনেত্রীর বাড়ি থেকে ছাতায় মুখ ঢেকে। কেউ দেখতে পাননি তাঁকে। কোনও মন্তব্য করেননি তিনি জিজ্ঞাসাবাদ-বৈঠক ঘিরে। এবার দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কি হয়। জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে যে অভিষেকের গ্রেফতার হওয়া কি এবার শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।



By










