দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ভবানী ভবন থেকে বেরোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সাংবাদিকদের কিছু না বলেই বেরিয়ে যান ডায়মন্ড হারবার সাংসদ। সেখান থেকে তিনি গিয়েছেন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বৈঠক করছেন তাঁরা। আগামী ১৪ জুন ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে যে আগ্রহ তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলের, তা বলাই বাহুল্য।
সই জাল কাণ্ডের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২১ দিনের রক্ষাকবচ দেওয়া হলেও আদালতের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় সন্ধ্যে ছটার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার। সেই মতো তিনি কলকাতা ফেরেন। তবে বিমানবন্দরে তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। প্রথমে তিনি যান কালীঘাটের বাড়িতে। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর রওনা দেন ভবানী ভবনের উদ্দেশ্য।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে সন্ধ্যা ৬টার আগে সিআইডি দপ্তরে যাওয়ার পর প্রথমে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ৬-৭ জন আধিকারিক। তারপর সেই সংখ্যা বেড়ে গিয়ে হয় ১০। তাঁরা তাঁকে ম্যারাথন জেরা করেন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকারও। জানা গিয়েছে, নানা কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে ডায়মন্ড হারবার সাংসদকে। রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ সুপ্রতিম সরকার বেরোনোর পর বেরিয়ে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও জানা গিয়েছে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের তলব করা হয়েছে আগামী ১৪ জুন। বেলা ১২টার মধ্যে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। সূত্র মারফত খবর, যেই উত্তর দেওয়া হয়েছে অভিষেকের তরফ থেকে তাতে তদন্তকারীরা সন্তুষ্ট হননি এবং সেই কারণেই তাঁকে আবারও ডেকে পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, সিআইডি সেই চিঠি দিয়ে দিয়েছে তৃণমূল সাংসদকে। এবার দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কি হয়। জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে যে অভিষেকের গ্রেফতার হওয়া কি এবার শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।



By










