• Home
  • জেলার খবর
  • মৃত পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন অভিষেক

মৃত পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন অভিষেক

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: যেমন কথা তেমন কাজ। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে পুনেতে মৃত পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে তৃণমূল কংগ্রেস আর ঠিক সেটাই হল। শুক্রবার সেই মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম সুখেন মাহাতো। তিনি পুরুলিয়ার বরাবাজার থানার তুমড়াশোলের বাঁধডির বাসিন্দা। ২০২১ সাল থেকে থেকে তিনি পুনেতে চাকরি করতেন। কোরেগাঁও ভিমার পাশে সনৎবাড়ি এলাকায় এক গাড়ির পার্টস তৈরি করার কোম্পানিতে তিনি কাজ করতেন। সেখান থেকেই তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর দাদা তুলসীরাম মাহাতোর অভিযোগ, তাঁর ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন তিনি শিকারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুলিশের তরফ থেকেও তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এই হত্যার খবর পেয়েই সুখেন মাহাতোর বাড়িতে ছুটে যান পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার জন্য হত্যা করা হয়েছে সুখেনকে। ঘাসফুল শিবিরের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে সুখেন মাহাতো তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জন করা সদস্য ছিলেন এবং তাঁর পরিবারকে সবরকম সাহায্যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “এক যুবককে অত্যাচার করা হয়েছে তাঁর ভাষা, পরিচয় ও শিকড়ের জন্য এবং হত্যা করা হয় শেষে।” এরপর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর বক্তব্য, “আমি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” এরপরই মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি সুখেনের পরিবারকে বলছি, এই কঠিন মুহূর্তে আপনাদের পাশে আছে গোটা বাংলা।” এবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুণের পুলিশের তরফ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে এই প্রসঙ্গে এবং জানানো হয়েছে যে মত্ত অবস্থায় সুখেন মাহাতো দুজনের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তার জেরেই হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। শিখাপুর থানার ইনস্পেক্টর দীপরতন গায়কোয়াড় দাবি করেছেন যে বচসার সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও হামলার নেই। তিনি জানান যে পরে দেখা গিয়েছে ঘটনাস্থলের কাছে সুখেন পড়ে রয়েছেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে এবং মুখ বাঁচাতে এমন গল্প বানানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে কি ঘোষণা করেন, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top