দেবজিৎ মুখার্জি: ‘যোগী রাজ্য’ উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দানের টাকা চুরির ঘটনায় রাজ্য সরকারের কাছে তাদের অন্তর্বর্তিকালীন রিপোর্ট জমা দিল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। ১৫০ পাতার এই রিপোর্টটি তাদের তরফ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে রাজ্যের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিব (স্বরাষ্ট্র) সঞ্জয় প্রসাদের কাছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে তদন্তের।
এই প্রসঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেছেন, “দরকারি পদক্ষেপের জন্য মুখ্যমন্ত্রী গোচরে আনা হবে রিপোর্ট।” সূত্র মারফত খবর, অন্তর্বর্তিকালীন রিপোর্টে চিহ্নিত করা হয়েছে রাম মন্দির ট্রাস্টের কয়েকজন পদাধিকারীর গাফিলতির বিষয়টি। পাশাপাশি রিপোর্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ট্রাস্টের কয়েকজন পদাধিকারীর আত্মীয়দের ট্রাস্টে নিয়োগ নিয়েও বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাম মন্দিরের অনুদানের হিসেব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোটা অংকের টাকার গরমিলের অভিযোগ তোলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে অখিলেশ যাদব দাবি করেন, এটি বেশ উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক খবর বিশ্বের রাম ভক্তদের জন্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, হিসাব মিলছে না ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদানের এবং কেউ পরিষ্কার করে কিছু বলতে চাইছেন না এই বিষয়ে। এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র সীমিত নয় আর্থিক অনিয়মের প্রশ্নে, বরং রাম ভক্তদের বিশ্বাস ও আবেগের সাথে জড়িয়ে। আদালতের হস্তক্ষেপেরও দাবি জানান অখিলেশ।
প্রথমে ট্রাস্টের তরফ থেকে এই অভিযোগকে গুরুত্ব না দেওয়া হলেও পরে সন্দেহজনক ট্রানজ্যাকশনের হদিস মেলে। তাদের অনুরোধে যোগী আদিত্যনাথ নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশ সরকার গঠন করে সিট। ঘটনায় মন্দিরের একাধিক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিনয় কাটিহার ও ব্রিজভূষণ শরণ সিং। তাতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের যে মুখ পুড়েছে, তা না বললেও চলে। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এবার দেখার বিষয় যে তদন্ত করে কী বেরিয়ে আসে। আগামীদিনে কোনও বিস্ফোরক তথ্য হাতে লাগে কিনা, সেদিকে নজর রয়েছে ইউপি সহ গোটা জাতীয় রাজনৈতিক মহলের।



By










