দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের প্রায় ২৮ দিন পর পথে নামলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব থেকে শুরু করে একাধিক অভিযোগ তুলে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধরনায় বসলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। সেখান থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে রাজ্যের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেত্রী দাবি করেন যে দিল্লি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙার খেলা চলছে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। বলা ভালো, গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ১০০রও কম আসন পেয়েছে তারা। ফলপ্রকাশের পর থেকেই নানাভাবে অস্বস্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। কখনো দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর অত্যাচার, কখনো রাজ্য বা কেন্দ্রীয় এজেন্সিদের দিয়ে দলের নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা। এক কথায় বলতে গেলে, বর্তমানে চরম চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গোটা দল।
এই আবহে রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার পথে নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসলেন তিনি সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতারা। এদিন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল রীতিমত দেখার মতো। গোটা এলাকায় শোনা যাচ্ছিল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। ধরনা কর্মসূচি থেকে গেরুয়া শিবিরকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, “দিল্লি থেকে কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি সরকার।” পরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে ঘাসফুল শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের উপর। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এও দাবি করেন যে বেআইনিভাবে বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং দলীয় প্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে চেষ্টা চলছে দল ভাঙার।
তৃণমূল সুপ্রিমো এদিন এও স্পষ্ট করে দেন যে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে। তাঁর ঘোষণা, ‘ধর্না চলবে।’ আন্দোলনের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধে চলা ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার বার্তাও দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভোকাল টনিক দলের সকল স্তরের নেতাদের থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থক, সবারই মনোবল চাঙ্গা করবে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।


By










