দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: পালাবদলের প্রায় ২৮ দিন পর পথে নামতে চলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা থেকে শুরু করে হকার উচ্ছেদ অভিযান সহ একাধিক ইস্যুর বিরোধিতা জানিয়ে মঙ্গলবার ধরনায় বসার কথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর। যদিও স্থানকে ঘিরে রয়েছে জটিলতা। রানী রাসমণি রোডে ধরনায় বসার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তার পরিবর্তে অনুমতি দেওয়া হয়েছে ওয়াই চ্যানেলে দু’ঘণ্টার জন্য। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে যেখানে পুলিশ আটকাবে, সেখানেই তিনি ধর্নায় বসবেন। তাঁর কথায়, “গ্রেপ্তার করার হলে করুন। মারলে মার খাবো।”
সোমবার এই ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো জানান, “রাস্তায় আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। আমি একাই যাব কেউ না থাকলে। যেখানে আটকাবে সেখানেই ধরনা করবো বসে। সেটাই হবে ধরনাস্থল। গ্রেপ্তার করার হলে করুন। মারলে মার খাবো। দিল্লিতে আন্দোলন করবো যদি বাংলায় আমায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে না দেওয়া হয়।” দলীয় নেতৃত্বদের তিনি এও পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে মিটিং না করতে দিলে, কেউ অনুমতি নিতে যাবে না আদালতে।
এছাড়া সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে বিজেপি সরকারকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিপদ আছে আমাকে ছেড়ে রাখলে। কারণ মাথা নত করি না আমি। আপনারা মেরে ফেলতে পারেন আমাকে, কন্ঠ স্তব্ধ করে দিতে পারেন আমার।” এরপরই মিটিংয়ের জনা পুলিশ অনুমতি না দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশাসনকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, “কোনও পারমিশন দিচ্ছেন না মিটিং মিছিল করতে। অনুমতি ৭ দিন আগে চাওয়া হয়েছিল। ইনফরমেশন দিতে হয় পুলিশকে, দিয়েছি। পারমিশন চেয়েছি সিইএসসির। পুলিশ বাধা দেয় রানি রাসমণি আভিনিউতে মঞ্চ তৈরি করার কাজ করতে গেলে। জানানো হয়, ধরনা কর্মসূচি করা যাবে না ওই এলাকায়।”
এরপরই কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মঙ্গলবার দুপুর ১টায় সকলে আসুন কর্মসূচিতে, যাঁরা আসতে পারবেন। আমি নিজে পৌঁছব ২টোর মধ্যে। পুলিশ আটকালে বসে পড়ব সেখানেই।” এবার দেখার বিষয় যে আজকের কর্মসূচি থাকে দাগ কাটতে পারেন কিনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী হতে চলেছে আজ? কোনও বিশেষ ঘোষণা কি করা হবে দলের তরফ থেকে? এই সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন এখন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে। এবার দেখার আগে কি হয়।



By










