দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বহিষ্কারের কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি আরো জানান যে তিনি যা কিছু জানেন, তা বলতে পারেন এবং চিঠি লিখে সরকারকে দুর্নীতির বিষয়ে জানাবেন। ঋতব্রতর এমন বিস্ফোরক অভিযোগকে ঘিরে জোর হইচই পড়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে।
বর্তমানে একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, যার মধ্যে অন্যতম বিধানসভায় সই বিতর্ক। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই ঘাসফুল শিবিরের একাধিক বিধায়কের বাড়িতে হানা দিয়েছে সিআইডি। শুধু বিধায়ক নন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছেন সিআইডির আধিকারিকরা। নানা প্রশ্ন এই মুহূর্তে ঘোরাফেরা করছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটিকে নিয়ে।
এই আবহে এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তরফ থেকে জানানো হয় যে স্পিকারকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা এবং তার ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় অভিযোগ জানায় হেয়ার স্ট্রিট থানায়। এখানেই শেষ নয়, এদিন মুখ্যমন্ত্রী এও জানান যে বিষয়টি পুলিশমন্ত্রী হিসেবে জানার পরই তিনি সিআইডিকে তদন্ত যুক্ত করার নির্দেশ দেন।
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই সিদ্ধান্তের পর নিজেদের অবস্থানে দুই বহিষ্কৃত বিধায়ক জানান, “১৯ তারিখ কালীঘাটের অফিসে সই করানো হয়েছিল যে অ্যাটেনডেন্স খাতায়, তারই পাতা ছিঁড়ে জমা দিয়ে রেজুলেশনের কাগজ বলে দাবি করা হয়েছিল। এ তো সম্পূর্ণ অনৈতিক। আজ দল বহিষ্কার করলো সেই কাজের প্রতিবাদ করেছি বলে।” দুই বিধায়কের তোপ, এর মানে দল সমর্থন করে অনৈতিক কাজকেই।
বহিষ্কারের কিছুক্ষণের মধ্যেই এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়ে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “যা যা জানি আমি বলতে পারি। চিঠি লিখে সরকারকে দুর্নীতির বিষয়ে জানাবো।” তাঁর দাবি, বিশাল অনিয়ম হয়েছে উলুবেড়িয়া পুরসভায় উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। তাঁর অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাজ দেওয়া হয়েছে এবং স্বচ্ছতার অভাব ছিল সরকারি সুবিধা বণ্টনে। তবে এখনো কোনও নথি তিনি প্রকাশ্যে পেশ করেননি এই অভিযোগগুলির পক্ষে। তাঁর আরও বক্তব্য, “তৃণমূল সরকারের নেই বলে এগুলো বলতে পারছি। লিখে জানাবো সরকারকে দুর্নীতির বিষয়ে।” তিনি আরো দাবি করেন যে চিন্তা ছিল ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও। তবে এখন খোলাখুলি কথা বলতে পারছেন পালাবদলের পর।



By










