দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বিধানসভায় ঘাসফুল শিবিরের বিধায়কদের সই জাল মামলার তদন্তে নয়া মোড়। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়ে ভবানীভবনে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতির কালীঘাটের বাড়িতে পৌছায় সিআইডি। এখানেই শেষ নয়, ভিডিওগ্রাফিও শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য আরো বেড়েছে।
গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে বৈঠক করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম। উপস্থিত সকলেই তাতে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় প্রস্তাবনা জমা দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। শপথের পর বিধায়করা নিয়ম মেনে সই করেন। বিধানসভার সচিবের তরফ থেকে ঘাসফুল শিবিরের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চাওয়া হয়।
তা জমা দিতে কালীঘাটে ফের বৈঠক ডাকা হয় ১৯ মে। সেদিন অনেকে ছিলেন, আবার অনেকে ছিলেন না। দল উপস্থিত সকলের সই নেয়। কতজন গরহাজির মিলিয়ে দেখা হয়। পরে বিধানসভায় ৭০ জনের সই করা এক কাগজ জমা দেওয়া হয় প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে। প্রাক্তন শাসকদল জানায়, সেটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র এবং এখানেই শুরু গরমিল। দুই জায়গায় দলের বিধায়কদের সইয়ের অমিল দেখে সচিবের জালিয়াতি সন্দেহ হয় এবং থানায় করা হয় এফআইআর। তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে সিআইডি কাজ শুরু করে।
ইতিমধ্যেই আধিকারিকদের তরফ থেকে নোটিস পাঠানো হয় নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম, কুণাল ঘোষকে। শনিবার নোটিস দেওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। সোমবার তাঁকে তলব করা হয়েছিল ভবানীভবনে। কিন্তু সোনারপুরে তাঁর উপর হামলা হওয়ায় তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়ে এড়িয়ে যান হাজিরা। তবে তদন্তে কোনও খামতি না রাখতে তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছে যান সিআইডির একটি দল।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, ভিডিওগ্রাফির ব্যবস্থা করার নেপথ্যে মামলার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি বিষয় নথিভুক্ত করা। এদিন অনেকক্ষণ বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায় সিআইডি আধিকারিকদের। প্রথমে তাঁরা প্রবেশ করতে পারেননি বাড়ির ভিতরে বলে জানা যায়। তবে পরে তদন্তের জন্য ক্যামেরাবন্দি করা হয় বাড়ির বাইরের অংশ এবং আশপাশের পরিস্থিতিও।



By










