দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আগামী মঙ্গলবার, ২রা জুন, ধর্মতলার রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে ধর্নায় বসার কথা ছিল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে এর প্রাক্কালে কর্মসূচিতে ব্যাপক রদবদল করলেন তিনি। ধর্নার পরিবর্তে রানি রাসমনি অ্যাভিনিউ জুড়ে একটি প্রতিবাদী পদযাত্রা করবেন ঘাসফুল শিবিরের সুপ্রিমো। নবান্ন ও পুলিশ সূত্র মারফত খবর, অবস্থান বিক্ষোভের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পালাবদলের পর এই মুহূর্তে যে সেখানে বিক্ষোভের অনুমতি পাওয়া যাবে না, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোই বুঝতে পেরেছেন।
দলের অন্দরের খবর, এই ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ যদি মিছিলের অনুমতি নাও দেয়, তাও তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন না অনুমতি চেয়ে। তার পরিবর্তে এক সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তিনি এই প্রতিবাদ দেখাবেন পথে নেমে। দলীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে মঙ্গলবার চারটি বিষয়ের বিরোধিতা জানিয়ে পথে নামবেন তৃণমূল সুপ্রিমো – ভোট পরবর্তী হিংসা ও কারচুপির, দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর লাগাতার আক্রমণ, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে চাপ তৈরি এবং একনায়কতন্ত্র।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে আসল কারণ হলো গত দুদিনে দুটি বড় ঘটনা ঘটে যাওয়া – সোনারপুরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্ডীতলায় দলের অন্যতম বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা। এমন ঘটনার জেরে দলের সকল স্তরের নেতারা বেশ আতঙ্কিত। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের মতে এটি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জনরোষ।
প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে একাধিকবার দলের সকল স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘুরে দাঁড়াতে হলে কী প্রয়োজনীয়, সেই নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সকলকে মানুষের মাঝে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা ঘাসফুল শিবির। কোন পথে হাঁটতে চলেছে তারা? তাদের রুখতে কি পরিকল্পনা শাসক শিবিরের? বর্তমানে এই সংক্রান্ত বহু প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে। তবে বর্তমানে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে বেশ স্পর্শকাতর, তা বলাই বাহুল্য।



By










