হাফিজুর রহমান, কলকাতা: আমার কাজের জায়গা বম্বে, টলিপাড়ায় কোনোদিন সাংবাদিকতা করিনি। কাজেই অনিক দত্তর সঙ্গে পরিচয় হয়নি। দরকার হয়েছিল তাই হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম ওকে। শিষেন্দু মুখার্জিকে ফোন করে অনিকের নাম্বার চেয়েছিলাম, পরিচয় জেনেও আমাকে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন অনেকদিন। তারপর আশ ছেড়ে দিয়েছিলাম। বাংলায় ফিল্ম ডাইরেক্টরই নেই, তাই শীর্ষেন্দু বাবুর মতো লেখকের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল। নিরামিষাশী, সৎসঙ্গ করা মানুষ এরকম হয়! দেরি হওয়ার ভূতের ভবিষ্যতের হিন্দি ফিল্ম স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ হাত ফসকে যায়।
অনিককে দেখিনি কখনো। ফোনালাপে অনিক আমার সঙ্গে টানা ১৫ মিনিট কথা বলেছিলেন। ভূতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হয়েছিল। কথা হয়েছিল ওর পরের ফিল্মটির উপর। জানিয়েছিল বড্ডো দেরি করে ফেলেছি, টলিপাড়ায় প্রফেশনালিজমের অভাবের অনুযোগের কথায় অনিক একমত হয়েছিল। ব্যাস অনিকের সঙ্গে আর যোগাযোগ করিনি। কারণ কাজের লোককে অকারণে বিরক্ত করতে চাইনি।
ভূতের ভবিষ্যৎ আমায় চমকে দিয়েছিল। এরকম স্যাটায়ার বাংলা ছবিতে দেখিনি। সত্যজিৎ রায়ের মতো বিজাপন দুনিয়া থেকে ফিল্মি দুনিয়ার এসেছিল, গুরু সত্যজিৎ রায়ের মতো ডিটেইলসের উপর নজর দিয়েছিল। ছোট-বড় একেকটা চরিত্র সমান যত্নে ও মমতায় গড়ে তুলেছিল। প্রতিটি কারেক্টারের উপর নজর ছিল, তাই একটি ছবি করেই সে তার জাত চিনিয়ে দিয়েছিল। এরপরের ফিল্ম গুলি দেখিনি। অনিকের আপরাজিত মুগ্ধ করেছিল আমাকে, তাই বাধ্য হই কথা বলতে।
একদিন আড্ডা মারতে আসতে বলেছিল। পার্কিনসনে আক্রান্ত। চলতে গেলে লোকের সাহায্য লাগে, তাই ইচ্ছে থাকলেও যেতে পারিনি। শুনেছিলাম ফুসফুসে সমস্যা নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ, একমাত্র মেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করছে। এই একাকিত্ব নিতে না পারার জন্যই কি বুকে একরাশ অভিমান নিয়ে চার তলা থেকে দেহ বাইরে ভাসিয়ে দিল। বাংলায় স্যাটায়ার ধর্মী ফিল্মের অভাব অনিক পূর্ণ করেছিল। অপরাজিত Film within Film is real tribute to his Guru Satyajit Ray…. অনিক চলে গেল। রেখেগেলো একরাশ শূন্যতা। এই শূন্যতা কবে পূর্ণ হবে কে জানে।



By












