দেবজিৎ মুখার্জি, জলপাইগুড়ি: বর্তমানে ভোট-পরবর্তী হিংসাকে ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। এই আবহে রাতের অন্ধকারে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠল এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী প্রখ্যাত অ্যাথলিট, তথা রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী, স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে। খবর জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।
এই ঘটনায় পরিচিতদের হাত রয়েছে বলেই দাবি স্বপ্নার। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে রাজনীতিতে আসাই। আজ তারাই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে, যারা পাশে ছায়ার মতো ঘুরত দুদিন আগেও।” শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে তিনি এক বিস্ফোরক দাবিও করেন। স্বপ্না বর্মনের আরও অভিযোগ, ইদানীং তাঁকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কুকথা বলার পাশাপাশি গণধর্ষণের হুমকিও দিয়েছেন কিছু অল্পবয়সী ছেলে।
শনিবার বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নিলেন স্বপ্না বর্মন। নিজেই স্কুটি চালিয়ে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানায় এসে উপস্থিত হন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার নেপথ্যে কি কারণ বা কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশের তরফ থেকে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি বেরিয়ে আসে তদন্ত থেকে। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নাকি অন্যকিছু, সেটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়ির পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষ পাড়ায় দুটি বাড়ি রয়েছে স্বপ্না বর্মনের, যার মধ্যে একটিতে তিনি পরিবারকে নিয়ে থাকেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ আগুন লাগে তাঁর অপর পরিত্যক্ত বাড়িটিতে। তিনি নিজেই তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই খবর জানালে চোখের নিমেষে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই এলাকায় যায় পুলিশ ও দমকলের ইঞ্জিন।
তবে বাইরে জোরদার বৃষ্টির জেরে বাইরে ছড়াতে পারেনি আগুন। দমকল কর্মীরা, যে ঘরটিতে আগুন লেগেছিল, তা শীঘ্র নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ সূত্র মারফত জানানো হয়েছে যে মূলত ফাঁকাই থাকত সেই বাড়িটি। কোনওভাবে আগুন ধরে যায় ঘরের এক অংশে মজুত থাকা জ্বালানি কাঠ ও নথিপত্রে। ঘটনার উৎস খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে।



By











