দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী, যার প্রশংসা এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এই আবহে রাজ্যবাসীর সমস্যা শুনতে বড় উদ্যোগ নিতে চলেছেন তিনি। যোগী আদিত্যনাথের ‘রাম-রাজ্য’, অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশের আদলে পশ্চিমবঙ্গেও চালু হতে পারে ‘জনতার দরবার’। কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন রাজ্যবাসী, তা তিনি সরাসরি শুনবেন।
জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগের নেপথ্যে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও জনমুখী করে তোলার লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর তরফ থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে যে রাজ্যবাসীর পাশে রয়েছে সরকার এবং তাদের কাছে প্রাধান্য সরাসরি মানুষের সমস্যা মেটানোই। নির্দিষ্ট দিনে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নিজেদের যাবতীয় অভিযোগ, সমস্যা ও দাবি তুলে ধরতে পারবেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে। জানা যাচ্ছে, অভিযোগ শুনে অবিলম্বে সমাধানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হতে পারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। সব পরিকল্পনা অনুসারে চললে আগামী ১ জুন থেকেই এই ‘জনতার দরবার’ শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পুরো সূচি ঘোষণা করা হয়নি সরকারিভাবে। রাজ্যবাসীদের মধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়েছে এটি নিয়ে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং এর সঙ্গে শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By











