দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: কদিন আগে শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতিনিয়ত অস্বস্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে। দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের রাজ্যের নানা প্রান্তে হামলার শিকার হতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দলের নেতারাই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চোর’ স্লোগান শুনতে হয়েছে। আরো অনেককেও এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। এক কথায়, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গোটা দল।
এই আবহে বৃহস্পতিবার ভিডিও বার্তায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি দলের সকলকে মনে করিয়ে দেন যে লড়াই করেই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি মনে করিয়ে দেন অতীতের সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের কথাও। দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি এই প্রসঙ্গ টেনে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য লড়াইয়ের বার্তা দেন।
অতীতের সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ঘাসফুল শিবিরের অস্ত্র হল আপসহীন লড়াই। দলের কর্মীদের জানান যে প্রত্যেকটি দখল হওয়া দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করার পাশাপাশি পৌঁছাতে হবে সাধারণ মানুষের কাছে। দলের সৈনিকদের আশ্বস্ত করে ডায়মন্ড হারবার সাংসদ বলেন, “সোনা যেমন খাঁটি হয় আগুনে পুড়ে, এই কঠিন পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করে তুলবে তৃণমূলকেও।” রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, দলের এই দুর্দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভোকাল টনিক দলের সকল কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করবে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইতে জোরকদমে নামার জন্য।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং এর সঙ্গে শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By












