দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বাংলার মসনদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একের পর এক ঝড় ধেয়ে আসছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। কোথাও দলের নেতাদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন অন্যান্য নেতা-কর্মীরা, কোথাও আবার আক্রান্ত হচ্ছেন দলীয় কর্মীরা। শুধু তাই নয়, বহু নেতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করেই ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে গোটা ঘাসফুল শিবির।
এই আবহে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তার দ্বারা দলের সকল সদস্যকে মনে করিয়ে দেন যে ঘাসফুল শিবির ময়দানে লড়াই করে উঠে আসা একটি দল। শুধু তাই নয়, বর্তমানে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে গোটা দল, সেটাকে তিনি ‘অগ্নিপরীক্ষা’ বলে দাবি করলেন এবং সকল কর্মীকে একজোট হওয়ার বার্তা দেন।
ভিডিও বার্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে গেরুয়া শিবির ইভিএম ও ভোট লুট করে ক্ষমতায় এসেছে এবং তারা বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতির বক্তব্য, “এটি মানুষের রায় হতে পারে না। বেশিদিন টিকবে না তারা যারা ক্ষমতায় এসেছে মানুষের আদেশকে প্রভাবিত করে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং এর সঙ্গে শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By










