দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ক্ষমতাচ্যুত হতেই প্রকাশ্যে আসে তৃণমূল কংগ্রেসের গৃহযুদ্ধ। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে সাসপেন্ড করা হয় দলের ৩ মুখপাত্রকে। এই আবহে বিস্ফোরক দাবি করলেন ঘাসফুল শিবিরের অন্যতম সাসপেন্ডেড মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, রাজ্যজুড়ে আরজি কর আন্দোলন চলার সময়ে সরকার ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ডায়মন্ড হারবার সাংসদ।
কোহিনুরের বক্তব্য, খোদ ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতিই পরিকল্পনা করেছিলেন আরজি কর আন্দোলন চলার সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে অস্থির করে ফেলে দেওয়ার। শুধু তাই নয়, তিনি এও জানান যে তাঁকে পোস্ট ডিলিট করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে কসবা ল কলেজের ঘটনার প্রতিবাদ করায়। সাসপেন্ডেড তৃণমূল মুখপাত্রের স্পষ্ট কথা, “প্যারাসুট থেকে নামা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ করেছে এই তৈরি করা তৃণমূল কংগ্রেসকে।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী দল বিজেপির তরফ থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিহত মহিলা চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথকে। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল তাঁকে এবং তিনি বড় ব্যবধানে জয়ও পান। ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে তিনি পরাজিত করেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে। তবে দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত বিচার পান কিনা অভয়া।
উল্লেখ্য, আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালে। বিষয়টি জানাজানি হতেই তোলপাড় চলে গোটা বাংলায়। পথে নেমে প্রতিবাদ জানান জুনিয়র ডাক্তার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একাংশ। লাগাতার বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে। যদিও তারাও পাল্টা দেয় বিরোধীদের। শেষ পর্যন্ত ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে সাজা পান ধৃত সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের। যদিও অনেকে এখনো মনে করেন যে ঘটনায় হাত রয়েছে হাসপাতালে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষেরও। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কী হয়।



By










