দেবজিৎ মুখার্জি, মুর্শিদাবাদ: বছর তিনেক আগে রাজ্য রাজনীতিতে জোড় হইচই পড়েছিল সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বামফ্রন্ট সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বায়রন বিশ্বাসের জয়। কিন্তু তার কয়েকমাস পরই তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এবার ঘাসফুল শিবিরের তরফ থেকে তাঁকেই প্রার্থী করা হয়েছে সেখান থেকে। তবে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি করে বসেন। তিনি মেনে নেন যে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
বায়রন বলেন, “আমি স্বার্থপর। বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। বলব না যে করিনি। টিকিট পেয়েছিলাম কংগ্রেস থেকে। অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাতে আমার হাতেখড়ি। চিরকাল মনে রাখবো তাঁকে। উনি আমার গুরুদেব। ভগবানের পর ওনার স্থান। শ্রদ্ধা করি দাদা বলে। উনি ছোট ভাইকে কিছু বলতে পারেন বড় হয়ে। কিন্তু দুঃখ নেই আমার।” নিজের জয় সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হলেও তিনি বলেছেন, “জিততে সবাই চায়। সকলেই নামে আশা নিয়ে। কিন্তু সামাজিক পরিষেবা দিতে হবে। কেউ যদি আমার চেয়ে ভালো পরিষেবা দিতে পারেন, তবে জয়ী করুন তাঁকে।”
বায়রনের এমন মন্তব্যের পর খোঁচা দিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “আমার তো আর কিছু বলার নেই। বিশ্বাসঘাতকতা করেছে নিজেই স্বীকার করছে। যখন নিজেই নিজেকে বিশ্বাসঘাতক বলে, সাধারণ মানুষ ঠিক করবে সেই বিশ্বাসঘাতকের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত। আমি এটুকু বলতে পারি যে সাগরদিঘিতে প্রার্থী হিসেবে তুলনা হয় না মনোজ চক্রবর্তীর। এটুকু বলতে পারি।”
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘিতে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুব্রত সাহা। তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার ফলে উপনির্বাচন হয় এই আসনে এবং তাতে জেতেন বামফ্রন্ট সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। তবে তার কয়েকমাস পর তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন। এবার তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই। এবার দেখার যে এবার জয় তিনি নিজের নামে করতে পারেন কিনা।



By










