• Home
  • জেলার খবর
  • Chandannagar: চন্দননগরে উৎসবের আমেজ; ঐতিহাসিক ফরাসি রেজিস্ট্রি ভবনের সংস্কার শুরু, উপস্থিত থাকবেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত

Chandannagar: চন্দননগরে উৎসবের আমেজ; ঐতিহাসিক ফরাসি রেজিস্ট্রি ভবনের সংস্কার শুরু, উপস্থিত থাকবেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত

Chandannagar celebrates; renovation of historic French Registry building begins, French Ambassador to be present

স্বাধীনতার তিন বছর পর ভারতের মানচিত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হওয়া ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগরে এবার লেগেছে আন্তর্জাতিক ছোঁয়া। ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যকার ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের চুক্তিকে সম্মান জানিয়ে চন্দননগর স্ট্র্যান্ড রোডের সুপ্রাচীন ও ভগ্নপ্রায় ফরাসি ‘রেজিস্ট্রি বিল্ডিং’ নতুন করে সংস্কারের মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের মাধ্যমে এই সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠার শুভ সূচনা হতে চলেছে।

রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এই সংস্কার কাজের শুভ সূচনা করবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতে নিযুক্ত ফরাসি অ্যাম্বাসাডর এমআর থিয়েরি ম্যাথো (Thierry Mathou) ও ফরাসি সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

তিন দিনব্যাপী ‘চন্দননগর উৎসব’-এর মূল আকর্ষণ

ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রি ভবন সংস্কারের এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চন্দননগর স্ট্র্যান্ড রোড সেজে উঠছে তিলোত্তমার আলো ও ফরাসি আমেজে:

বিষয় ও ক্ষেত্র আয়োজিত পরিকল্পনা ও কর্মসূচি
আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ চন্দননগরের বিশ্বখ্যাত আলোকসজ্জায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে স্ট্র্যান্ড রোড। ভারত ও ফ্রান্সের সংস্কৃতির মেলবন্ধনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।
গঙ্গা আরতি ও ঐতিহ্য ভারতীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন হিসেবে গঙ্গাবক্ষে মহাসমারোহে গঙ্গা আরতির আয়োজন করা হয়েছে।
খাবার ও লোকজ সংস্কৃতি চন্দননগরের বিখ্যাত ‘জলভরা’ সন্দেশসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ফরাসি ও ভারতীয় খাবারের স্টল থাকছে স্ট্র্যান্ড রোডের দু’ধারে।
আন্তর্জাতিক অতিথি অভ্যর্থনা ফরাসি প্রতিনিধি দলকে চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী আপ্যায়নে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হবে।

ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রি বিল্ডিং ও ইউরোপীয় রিভার ট্যুরিজম

চন্দননগর মহকুমা শাসকের দপ্তরের বিপরীতে অবস্থিত এই ফরাসি রেজিস্ট্রি বিল্ডিং একসময় ফরাসি মুদ্রা ও ব্রিটিশ পাউন্ডের লেনদেনের প্রাণকেন্দ্র ছিল। দীর্ঘদিনের ভগ্নদশায় থাকা এই ভবনকে সেন্ট জোসেফ স্কুলের বিশেষ প্রাঙ্গণ থেকে সংস্কার কাজের মাধ্যমে আগের সাবেক চেহারায় ফিরিয়ে আনা হবে।

চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ এবং হুগলির প্রশাসনিক আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন। বিধায়ক জানান, কেবল এই রেজিস্ট্রি ভবনই নয়—ফ্রেঞ্চ মিউজিয়াম, ক্লক টাওয়ার, ডুপ্লে কলেজ ও চার্চের মতো স্থাপত্যগুলোকে রক্ষা করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

হুগলী নদী ঘিরে ইউরোপীয় ট্যুরিজম সার্কিট:

রাজ্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যান্ডেলের পর্তুগিজ ঐতিহ্য, চুঁচুড়ার ডাচ (ওলন্দাজ) ইতিহাস, শ্রীরামপুরের ড্যানিশ ও চন্দননগরের ফরাসি নিদর্শনগুলোকে একত্রে যুক্ত করে হুগলী নদী বরাবর আধুনিক ‘ইউরোপীয় রিভার ট্যুরিজম সার্কিট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শ্রীরামপুর থেকে ব্যান্ডেল ও ব্যারাকপুর পর্যন্ত আধুনিক রিভার ক্রুজ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

জগদ্ধাত্রী পূজার আগেই তিন দিনব্যাপী এই ইন্দো-ফরাসি সাংস্কৃতিক উৎসবে মাততে চন্দননগরবাসী এখন মুখিয়ে রয়েছেন।

Scroll to Top