ক্যানসারের মারণ কামড়ে মাত্র ১১ বছর বয়সে মা চলে যান না-ফেরার দেশে। তার দেড় বছরের মাথায় বাবার স্নায়ুর অসুখ কেড়ে নেয় রোজগারের পথ। মাথার ওপর মায়ের হাত নেই, বাবার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই—জীবন যখন কেবলই অন্ধকার, ঠিক তখনই মাত্র ১৩ বছর বয়সে জীবনযুদ্ধের হাল হাতে তুলে নিয়েছে নদীয়ার ফুলিয়ার কিশোর সঞ্জু দাস। এক হাতে স্কুলের বই আর অন্য হাতে গরম চায়ের কেটলি নিয়ে স্টেশনে স্টেশনে ঘুরে বাবার ওষুধ আর দু’বেলা একবেলা খাবারের যোগান দিচ্ছে নদীয়ার শিক্ষানিকেতন বিদ্যামন্দিরের ষষ্ঠ শ্রেণির এই ছাত্র।
ভয়াবহ বাস্তব ও ১৩ বছরের জীবনের রুটিন
ফুলিয়া স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশে রেলের জমিতে ছোট একটা টিনের ঘর। সেখানেই অসুস্থ বাবাকে নিয়ে সঞ্জুর সংসার:
-
সংসার ও সেবা: প্রতিদিন সকালে উঠে ঘর পরিষ্কার, বাসন মাজা ও রান্নাবান্না শেষ করে বাবাকে মালিশ করা এবং ওষুধ খাইয়ে দেওয়া—সবই একা হাতে সামলায় এই খুদে।
-
সপ্তাহের ভাগাভাগি: সংসারের খরচ জোগাতে পড়াশোনা পুরোপুরি ছাড়েনি সঞ্জু। সপ্তাহে চার দিন সে স্কুলে যায় আর বাকি তিন দিন নিজে চা বানিয়ে ট্রেন ও স্থানীয় বাজারে বাজারে বিক্রি করে।
-
টিউশন বন্ধ, তাও জেদ: অর্থভাবের কারণে প্রাইভেট টিউশন বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। তবু বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরায়নি সে। স্কুল আর লড়াইকেই আপন করে নিয়েছে।
রেলের নোটিস ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
একদিকে যখন বেঁচে থাকার লড়াই চরম রূপ নিয়েছে, ঠিক তখনই মাথায় নতুন খাঁড়া ঝুলছে আশ্রয়ের:
| জীবনের লড়াইয়ের দিক | বর্তমান সংকট ও বাস্তব চিত্র |
| বাবার চিকিৎসা | রাজমিস্ত্রির কাজ করা বাবা এখন নার্ভের রোগে আক্রান্ত হয়ে হাঁটতে অক্ষম। সঞ্জুর আয়ের ওপরই তাঁর প্রতিদিনের ওষুধ নির্ভর করছে। |
| আশ্রয়ের সংকট | স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমিতে টিনের ঘরে বসবাস করায় সম্প্রতি সেখান থেকে উঠে যাওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে খবর। |
| শিক্ষক দিবসের বার্তা | যে বয়সে বন্ধুদের সাথে মাঠে খেলাধুলো করার কথা, সেই বয়সে কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে সংসারের চরম বোঝা। সঞ্জুর এই সংগ্রাম সমাজের সমবেদনা ও প্রকৃত মানবিক দায়িত্বকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। |
উচ্ছেদ আতঙ্ক ও অর্থাভাব—এই দুই পাহাড়সম বিপদের সামনে দাঁড়িয়েও হার না মানা মানসিকতা নিয়ে বই আর চায়ের কেটলি নিয়ে প্রতিদিন ভোরে নিজের লড়াই শুরু করে ফুলিয়ার এই ‘ছোট্ট সেনাপতি’।



By










