দেবজিৎ মুখার্জি, মুর্শিদাবাদ: বেলডাঙা অশান্তিতে পুলিশের জালে আরও ৫। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে সিসিটিভি ফুটেজ ও সমাজমাধ্যমের ভিত্তিতে এই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত মোট গ্রেফতারির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬।
ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার এক সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে গত শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সেই অঞ্চল। পথ অবরোধ থেকে শুরু করে ট্রেন অবরোধ ও ভাঙচুর, একাধিক ঘটনা ঘটে। এমনকি এক সাংবাদিক পর্যন্ত আহত হন। শনিবারেও একই ঘটনা ঘটে। এরপর মাঠে নামে পুলিশ এবং একাধিক গ্রেফতারি করে, যাঁর মধ্যে রয়েছেন এক মিম নেতাও। বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছে। দায়ের করা হয়েছে দুটি জনস্বার্থ মামলা।
এই সবকিছুর মাঝে আরো ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের নাম নূর আলম, রবিউল ইসলাম, নূর আলম মোল্লা, লাদিম শেখ ও তুফাইল শেখ। বিষয়টি নিয়ে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ এবং সমাজমাধ্যম খতিয়ে দেখে এদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে। বহরমপুর আদালতে মঙ্গলবার তাদের তোলা হবে।”
উল্লেখ্য, হেমন্ত সোরেনের ঝাড়খন্ডে যে সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, তিনি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুর তালপাড়ার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ। খবর পৌছাতেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর নেমে আসে শোকের ছায়া। গলায় ফাঁস দেওয়া দেহ পাওয়া গিয়েছে তাঁর ঘর থেকে। যদিও বাড়ির লোকেদের অভিযোগ, আলাউদ্দিন আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে ঘটনাকে ঘিরে একেবারে যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা বেলডাঙা। প্রতিবাদ জানাতে রেললাইন ও সড়ক অবরোধের পাশাপাশি জ্বালানো হয় টায়ারও। গোটা অঞ্চলে রীতিমতো তোলপাড় চলে। যদিও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ উগড়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।



By










