দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতার, সহিষ্ণুতার ঐতিহ্যের গায়ে আমরা দাগ লাগতে দেব না” শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব দিবস ও গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে শপথ নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বক্তব্য তাঁর? নাম না করে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিজেপিকে আক্রমণ করেন, তা না বললেও বোঝা যায়। পাশাপাশি, তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরেন।
নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব দিবস ও গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন ও তাঁর মানবতার আদর্শ বিগত ৫০০ বছর ধরে আমাদের পথ দেখাচ্ছে, উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ধনী-দরিদ্র, বিদ্বান-মূর্খ, জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণকে একত্র করেছিল। তাদের প্রেমের শৃঙ্খলে বেঁধে, এক সাম্য ও ঐক্যের পথ দেখিয়েছিল যার পরিণতি বাংলার নবজাগরণ। তাই আমার কাছে মহাপ্রভুর ধর্ম মানে মানবতার ধর্ম।”
এরপর তৃণমূল সুপ্রিমো জানান, “আমাদের রাজ্য সরকার, মহাপ্রভুর জন্মস্থান নবদ্বীপকে “হেরিটেজ টাউন” হিসেবে গড়ে তুলছে। পাশে মায়াপুরে ইসকনের পবিত্র এই তীর্থ নগরী তৈরি করতে ৭০০ একর জমির বন্দোবস্ত করেছে রাজ্য সরকার।” শেষে তিনি শপথ নেন, “আজকের এই বিশেষ দিনে এই শপথ আমাদের নিতে হবে যে শ্রীচৈতন্যদেবের বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতার, সহিষ্ণুতার ঐতিহ্যের গায়ে আমরা দাগ লাগতে দেব না।”
প্রসঙ্গত, প্রত্যেক বছর ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালন করা হয় শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব দিবস ও গৌর পূর্ণিমা। চলতি বছরে তা পালিত হচ্ছে ৩রা মার্চে। ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দে আবিভূত হন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। যেহেতু তিনি নিম গাছের তলায় জন্মেছিলেন, সেই কারণে তাঁর নাম রাখা হয় নিমাই। পাশাপাশি, যেহেতু তাঁর গায়ের রঙ ছিল সোনার মতো, সেই কারণে তাঁকে বলা হয় গৌরাঙ্গ এবং ‘গৌর পূর্ণিমা’ বলা হয় তাঁর আবির্ভাবের পূর্ণিমাকে। একই দিনে বাংলায় পালন করা হয় দোলযাত্রা বা দোল পূর্ণিমা।



By










