দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: গেরুয়া শিবিরের নেতাদের তরফ থেকে যে বাদ পড়ার সংখ্যার কথা বলা হচ্ছিল, তা মিলে যাচ্ছে অসম্পূর্ণ চূড়ান্ত তালিকার গরমিলের সাথে। রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে সেই বক্তব্যের ভিডিওগুলি দেখিয়ে অংকটা বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অনেক আগেই টার্গেট সেট হয়ে গিয়েছিল এবং তা করে দিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা।
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এসআইআরের অসম্পূর্ণ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বাদ পড়েছে মোট ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম। খসড়া তালিকাতে বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ এবং চূড়ান্ত তালিকাতে বাদ পড়ে আরো প্রায় ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার। এছাড়া বিচারাধীন অবস্থায় প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম। নতুন ভোটার যুক্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬। এই পর্যন্ত রাজ্যের টোটাল ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪।
মোট বাদ পড়া এবং আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়াচ্ছে ১ কোটি ২৪ লক্ষের আশেপাশে। এই বিষয়টি নিয়ে রবিবার অবজেকশন জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি নেতাদের বক্তব্যের ভিডিও দেখান, যেখানে তাঁরা সকলেই দাবি করেছেন যে বাদ পড়বে এক কোটির বেশি নাম। ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতির বক্তব্য, চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গিয়েছে যে বাতিল এবং বিচারাধীন মিলিয়ে যেই সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে তা প্রায় মিলে গিয়েছে।
এই বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অনেক আগে টার্গেট তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেটা বিজেপি নেতারাই করে দিয়েছিলেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে সেই অনুযায়ী।” তাঁর সংযোজন, “তাই আমরা বলি বিজেপির সহকারী সংস্থা হচ্ছে এই কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের কথা মানে না কমিশন। বিচারব্যবস্থার ভরসা নেই এদের উপর। তাই নিয়োগ করতে হয়েছে বিচারপতি। এসব বলার জন্য মামলা করুন আমাদের বিরুদ্ধে। লড়ব আমি। অনেক প্রমাণ দেব।” এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে আর কি হয়।



By










