দেবজিৎ মুখার্জি: শীর্ষ আদালতে এখনো বিচারাধীন বাংলায় এসআইআর মামলা। প্রতিনিয়তই একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। এই আবহে ঘাসফুল শিবির ফের গেল শীর্ষ আদালতে। এবার তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে নির্দেশ মনে হচ্ছে না এবং তারা নির্দেশ দিচ্ছে জুডিশিয়াল অফিসারদের। রাজ্যের হয়ে এদিন প্রশ্ন করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল।
সুপ্রিম কোর্টে কপিল সিব্বল জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মানছে না এবং নির্দেশ দিচ্ছে জুডিশিয়াল অফিসারদের। এদিন একাধিক অভিযোগ তোলেন কপিল সিব্বল। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের তরফ থেকে জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে হাই কোর্টকে না জানিয়ে। প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করবে না কমিশন। কিন্তু কেন নয়? সেই প্রশ্নও আদালতে তোলা হয়।
সেই অভিযোগগুলির পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের তরফ থেকে কমিশনের উপর ভরসা ও আস্থা রাখার কথা জানানো হয়েছে। আদালতের প্রশ্ন, কমিশন না দিলে কারা প্রশিক্ষণ দেবে অফিসারদের? পাশাপাশি, সন্দেহ করতে বারণ করা হয় জুডিশিয়াল অফিসারদেরও। এছাড়া একই বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার আদালতে আবেদন জানানো নিয়ে সামান্য ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। আদালতের মতে, এবার শেষ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এই বিষয়টির।
প্রসঙ্গত, এসআইআর ইস্যুতে শুরু থেকেই আওয়াজ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যান্য নেতারা, সকলেই সরব হয়েছেন এই ব্যাপারে। রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়ার পর রাজনৈতিক তরজা অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়। প্রতিনিয়ত তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরকে আক্রমণ করে চলেছে।
বিজেপির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও আক্রমণ করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছিলেন তিনি এসআইআরের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিয়ে। শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত গিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। ভোটের আগে এসআইআরকে কেন্দ্র করে নতুন করে কিছু ঘটে কিনা, তার উপর রয়েছে গোটা রাজ্যের নজর।



By










