• Home
  • দেশ
  • “অসম্মান করার উদ্দেশ্য ছিল না” এনসিইআরটির বিতর্কিত বই নিয়ে বললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

“অসম্মান করার উদ্দেশ্য ছিল না” এনসিইআরটির বিতর্কিত বই নিয়ে বললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

Image

দেবজিৎ মুখার্জি: এনসিইআরটির অষ্টম শ্রেণীর সোশ্যাল সাইন্স বইয়ে বিচার বিভাগের দুর্নীতি ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এবার এই ব্যাপারে শোকজ নোটিস পাওয়ার মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও। এছাড়া শোকজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এনসিইআরটির সচিব ও চেয়ারম্যানকেও। গোটা বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি নিজের অবস্থান জানিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানিয়েছেন যে পুরো বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত।

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “পূর্ণ সম্মান দিই আমরা বিচার বিভাগকে। কেন্দ্রের কোনও উদ্দেশ্য ছিল না তাদের অসম্মান করার। খুব গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা বিষয়টিকে। যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আমরা পুরোপুরি মেনে চলব। যা ঘটেছে তার জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত এবং ফের দুঃখ প্রকাশ করছি।” যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এর সঙ্গে তিনি বলেছেন, “আমাদের সম্পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে বিচার বিভাগের উপর। এর নির্দেশ মেনে চলা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।”

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এই বিতর্কিত বই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে কেন্দ্রকে চরম ভর্ৎসনা করা হয়। তাদের বক্তব্য, ঘটনার গভীর তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা দেখিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “কি বার্তা যাবে যদি আপনি গোটা শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের শেখান যে বিচার ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত? কী শিখবেন শিক্ষক বা অভিভাবকরা।” এরপরই বইটিকে দেশে ও বিদেশে দুই জায়গাতেই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় বেঞ্চের তরফ থেকে। এই নির্দেশ দেওয়া হয় যেন অনলাইনেও বইটি প্রকাশিত না হয়। যেই বইগুলিতে বিচারব্যবস্থার দুর্নীতি সংক্রান্ত অধ্যায় রয়েছে, তাও নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, শীর্ষ আদালতে নোটিস পাঠিয়েছে এনসিইআরটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীনেশ প্রসাদকে।

উল্লেখ্য, এর আগে বইতে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আদালতের কাজকর্মের কথা শুধু বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন বইতে ‘বিচার বিভাগের ভূমিকা আমাদের দেশে’ নামক অধ্যায়টিতে এর সঙ্গে তুলে ধরা হয় সেই সমস্যাগুলির কথা যার ফলে প্রভাব পড়ে বিচার ব্যবস্থার কাজকর্মের উপর। দুর্নীতির মতো বিষযও তাতে রয়েছে। এই অধ্যায়টিতে লেখা কিভাবে বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রভাব পড়ে সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের উপর। 

বইতে লেখা হয়েছে, সাধারণ মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দুর্নীতি হতে দেখেন বিচার ব্যবস্থায় এবং এই কারণে সুবিচার পাওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় গরিব ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীদের জন্য। সেই কারণে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে যাতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় এবং জুডিশিয়াল স্ট্রাকচারে স্বচ্ছতা আসে। এই বিষয়ে জল আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এবার সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হল পুরো বইটি নিষিদ্ধ করার, দেশে ও বিদেশে এবং অনলাইন ও অফলাইনে। পাশাপাশি, নোটিস পাঠানো হয়েছে এনসিইআরটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীনেশ প্রসাদকে। এনসিইআরটির তরফ থেকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়া সত্ত্বেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখার যে আগামীদিনে এই ঘটনায় আর নতুন কি হয়।

Releated Posts

“জয় কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন”: কপিল সিব্বল

কপিল সিব্বলের বক্তব্য, “জয় কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা বদলা নয়, বদলের নীতিতে বিশ্বাসী।…

ByByDebojit Mukherjee May 6, 2026

জামিন পেলেন আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল

তাঁকে জামিন দিল দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ় কোর্ট। তবে এর বিরোধিতা করেনি ইডি বলে জানা গিয়েছে। 

ByByDebojit Mukherjee Apr 30, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top