দেবজিৎ মুখার্জি: এনসিইআরটির অষ্টম শ্রেণীর সোশ্যাল সাইন্স বইয়ে বিচার বিভাগের দুর্নীতি ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এবার তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলো শীর্ষ আদালত। কী বক্তব্য তাদের? সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, এভাবে পরিকল্পনার সঙ্গে আঘাত আনা হয়েছে বিচার বিভাগের উপর। পাশাপাশি, এটাও পরিষ্কার করে দেওয়া হয় যে প্রতিষ্ঠানকে উপেক্ষা করা সহ্য করা হবে না। এছাড়া কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার আইনজীবী কপিল সিব্বলের তরফ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হয় আদালতে এবং তাতে সমর্থন জানান আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিও। কপিল সিব্বল বলেন, “আমরা খুবই বিরক্ত।” এরপরই প্রধান বিচারপতি জানান যে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে জানেন। তাঁর বক্তব্য, “কাউকে প্রশ্ন তুলতে দেবো না বিচার বিভাগের সততা নিয়ে। কাউকে দেবো না অপমান করতে।” তাঁর সংযোজন, “এই ঘটনা বিচার বিভাগের উপর পরিকল্পনার সঙ্গে আঘাত। প্রতিষ্ঠানকে উপেক্ষা করা সহ্য করা হবে না।”
প্রসঙ্গত, এর আগে বইতে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আদালতের কাজকর্মের কথা শুধু বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন বইতে ‘বিচার বিভাগের ভূমিকা আমাদের দেশে’ নামক অধ্যায়টিতে এর সঙ্গে তুলে ধরা হয় সেই সমস্যাগুলির কথা যার ফলে প্রভাব পড়ে বিচার ব্যবস্থার কাজকর্মের উপর। দুর্নীতির মতো বিষযও তাতে রয়েছে। এই অধ্যায়টিতে লেখা কিভাবে বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রভাব পড়ে সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের উপর।
বইতে লেখা হয়েছে, সাধারণ মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দুর্নীতি হতে দেখেন বিচার ব্যবস্থায় এবং এই কারণে সুবিচার পাওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় গরিব ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীদের জন্য। সেই কারণে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে যাতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় এবং জুডিশিয়াল স্ট্রাকচারে স্বচ্ছতা আসে। এবার দেখার বিষয় যে এই ঘটনার জল আর কতদূর গড়ায়। আগামীদিনে কি হয়, সেখানেই এখন রয়েছে সকলের নজর।



By












