দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে বাংলা। পাল্টাতে শুরু করেছে গোটা রাজ্যের পরিস্থিতি। বলা ভালো, ভোটের হাওয়া বইছে গোটা রাজ্যজুড়ে। একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। আজও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়া ইস্যুতে। প্রতিনিয়তই রাজ্য রাজনীতি দেখে চলেছে এই বিষয়ে শাসক-বিরোধী আক্রমণ ও পালটা আক্রমণ।
এবার বিষয়টির আঁচ পড়লো ফুটবলের ময়দানেও। যদিও এই প্রথমবার নয়, এর আগেও দেখা গিয়েছে। শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আইএসএল এর প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় গতবারের জয়ী দল মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট ও কেরালা ব্লাস্টার্স। যেহেতু মোহনবাগানের হোমগ্রাউন্ডে খেলা হয়েছে, তাই ক্লাবের সমর্থকদের উপস্থিতি ও উন্মাদনা যে তুঙ্গে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। স্টেডিয়ামে টিফো দেন মোহনবাগান সমর্থকরা এবং আওয়াজ তোলেন বাঙালি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে।
টিফোতে লেখা, ‘বাঙালি ভারতকে দিয়েছে সম্মান, শিখিয়েছে মৈত্রী, নেতৃত্ব। আজ বাংলা বললে সে ‘বাংলাদেশি’: ধর্ম সংকটে জাতীয়তা।’ তাতে জায়গা পেয়েছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মহান ব্যক্তিত্বরা। এছাড়াও জায়গা পেয়েছেন সত্যজিৎ রায়, লিয়েন্ডার পেজ ও শিবদাস ভাদুড়ি। এই টিফো আজ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রসঙ্গত, আজকের ম্যাচে জয় পেয়েছে মোহনবাগান। কেরালা ব্লাস্টার্সকে তারা পরাজিত করেছে ২-০ গোলে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে উঠে আসছে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা ও হত্যার খবর। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অত্যাচার চালানো হচ্ছে তাঁদের উপর। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এর চরম নিন্দা করছে। আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার পাশাপাশি রাজপথে নেমেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঘাসফুল শিবিরের অন্যান্য নেতারা।
সংসদেও দলের সাংসদরা এই ব্যাপারে আওয়াজ তুলেছেন। যদিও গেরুয়া শিবির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছে এবং পাল্টা কটাক্ষ করে যাচ্ছে রাজ্য সরকারকে। এবার দেখার যে আগামীদিনে জল কতদূর গড়ায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবির এর জন্য চাপে পড়ে কিনা, সেই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বাংলার রাজনৈতিক মহলের অন্দরে।



By










