দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধাক্কা খেলো গেরুয়া শিবির। কী হয়েছে? দলের পতাকা ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুললেন ময়নার বিজেপি নেতা চন্দন মন্ডল। শুক্রবার তিনি তৃণমূল ভবনে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা নিজের হাতে তোলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, দলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এবং তমলুক সাংগঠিক এলাকার নেতা সুজিত রায়ের হাত থেকে। কী কারনে শাসক শিবিরে যোগ দিয়েছেন, তাও তিনি জানান।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পরিবেশ পাল্টাচ্ছে বাংলার। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, সকলেই জোরকদমে প্রস্তুতি চালু করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কিভাবে নিজেদের গড় ধরে রাখা যায় বা অন্যের গড় নিজেদের দখলে করা যায়, তার জন্য সবরকমভাবে ঘুঁটি সাজাচ্ছে দলগুলি। এক কথায় বলতে গেলে, কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র জমি ছাড়তে নারাজ।
এমন পরিস্থিতিতে বড়সড় ধাক্কা খেলো বঙ্গ বিজেপি। ময়নার বিজেপি নেতা চন্দন মন্ডল দল পাল্টালেন এবং সদস্য হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের। দলে যোগ দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের এই বিষয়ে যাবতীয় সবকিছু জানান। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেওয়া নৈতিক সিদ্ধান্ত। কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। ময়নার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই বলে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছি।” পাশাপাশি, তিনি ময়নার বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে এলাকার জন্য কাজ না করারও অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে (২০২১) বড় ব্যবধানে জয় পায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসে বাংলায়। বিপুল ভোটে জিতে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের পর ঘাসফুল শিবির ও তাদের জোটসঙ্গীর ঝুলিতে ছিল মোট ২১৬টি আসন। অন্যদিকে, বিজেপি পায় ৭৭টি।
বাম-কংগ্রেস খাতা খুলতে না পারলেও, তাদের জোটসঙ্গী আইএসএফ জয় পায় একটি আসন, তথা ভাঙ্গরে। তবে এই মুহূর্তে শাসকদল ও তাদের জোটসঙ্গীদের মোট আসনসংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ২২৫এ, বিজেপির ৬৫ এবং বাকিদের দখলে ৪টি। এবার দেখার যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পর চিত্রতে কোন পরিবর্তন দেখা যায় কিনা। নাকি অব্যাহত থাকবে সবুজ ঝড়? তা জানা যাবে কদিন পর।



By










