দেবজিৎ মুখার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা: বিধানসভা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। এই আবহে উঠে এলো রাজনৈতিক হিংসার চিত্র। কী ঘটনা ঘটেছে? শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হামলার বনগাঁ উত্তর বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার পরিবার এবং বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদারে শাশুড়ির উপরে আক্রমণের অভিযোগ উঠল। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ঘাসফুল শিবির। দলের বক্তব্য, এই ঘটনায় তাদের যোগ নেই।
জানা গিয়েছে, গোপালনগরের বেলডাঙায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে তাঁদের গাড়িতে আক্রমণের পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে নিজের অবস্থানে অশোক কীর্তনীয়া বলেন, “একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন আমার স্ত্রী। সেখানকার তৃণমূলের হার্মাদরা চক্রান্ত করেছিল আমার স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার। তছনছ করে দিয়েছে পুরো গাড়ি।” এরপরই তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “অচল করে দেওয়া হবে বনগাঁ যদি এই ঘটনার সঠিক বিচার না হয়।”
যদিও বিজেপি বিধায়কের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা। কী বলেছেন তিনি? গোপালনগর ব্লক ১ তৃণমূলের সভাপতি তাপস পাল বলেন, “কয়েকজন সাধারণ মানুষ চেষ্টা করেছিলেন ওনার গাড়ি দাঁড় করানোর। কিছুক্ষণ আগে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন এসআইআরের ফলে।” এরপর বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, “মানুষের খোঁজ তো উনি আসলে নেন না। এবার সেই সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করেছিলেন এসআইআর নিয়ে। কয়েকজন তখন হয়তো উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। শুনেছি ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তবে এতে কোনও যোগ নেই তৃণমূলের।”
প্রসঙ্গত, গতবছর তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল, যা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা একেবারে চরমে পৌঁছে গিয়েছিল। ঘাসফুল শিবিরের দিকে লাগাতার অভিযোগের আঙুল তুলেছিল গেরুয়া শিবির। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকেও পাল্টা দেওয়া হয় বিজেপিকে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খগেন মূর্মুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। এবার দেখার বিষয় যে এই ঘটনার জল কতদূর গড়ায়। কী হয় আগামীদিনে, সেটাই এখন দেখার।



By










