• Home
  • জেলার খবর
  • স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করল না তৃণমূল

স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করল না তৃণমূল

Image

দেবজিৎ মুখার্জি: যেমন কথা, তেমন কাজ। প্রথম থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে তাঁদের শর্ত মানা না হলে, তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করবেন না। ঠিক তেমনটাই হল। কংগ্রেস সেই শর্ত না মানায়, প্রস্তাবের সই করেননি ঘাসফুল শিবিরের কোনও সাংসদ। বিষয়টি নিয়ে যে অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই মুহূর্তে, তা না বললেও বোঝা যায়। 

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার থেকে। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির উপর শারীরিক হামলা হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে অধিবেশন মূলতুবি করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এই বিষয়টি একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধীরা। তাদের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে বাজেট অধিবেশনেই তারা অনাস্থা প্রস্তাব আনবে ওম বিড়লার বিরুদ্ধে। সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের পাশাপাশি অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে আসলে ৪টি কারণকে দেখিয়ে। তার মধ্যে রয়েছে সংসদে কথা না বলার সুযোগ দেওয়া বিরোধী দলনেতাকে, ৮ জন বিরোধী দলের সাংসদকে সাসপেন্ড করে দেওয়ার বিষয়টিও।

এই পরিস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরের হয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং এই বিষয়ে যাবতীয় সবকিছু বলেন। কী বলেছিলেন তৃণমূলের সেনাপতি? তিনি বলেছিলেন, “সই করতে আপত্তি নেই আমাদের। তবে তার আগে স্পিকারকে চিঠি দিক ইন্ডিয়া জোটের দলগুলি। লিখিত আকারে দেওয়া হোক যে চারটি বিষয়কে মাথায় রেখে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হচ্ছে। যুক্তিসঙ্গত জবাব না পেলে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হোক। কংগ্রেস যদি তাড়াহুড়ো করে অনাস্থা আনতে চায় স্পিকারের বিরুদ্ধে, তাহলে তাতে আমরা সই করব না। এটাই তো পার্থক্য নরেন্দ্র মোদিদের সঙ্গে আমাদের। সুযোগ তো তাঁকে দিতে হবে ভুল করলে।”

কিন্তু কংগ্রেস সেই শর্ত না মানায় তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সাংসদ ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেননি। জানা গিয়েছে ১২০ জন বিরোধী সাংসদ সই করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস, ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা। বলে রাখা ভালো, লোকসভার স্পিকারকে সরানো যেতে পারে সংবিধানের ৯৪(সি) ধারা অনুযায়ী। তবে তার জন্য ভোটের দ্বারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হয়। তবে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাবের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে নোটিস দিতে হয়। অর্থাৎ অধিবেশনের প্রথমাংশে সম্ভাবনা নেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার। যদিও লোকসভার সচিবালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে কিনা, তা দেখা হবে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। 

Releated Posts

আনুষ্ঠানিকভাবে ইতি তৃণমূল সরকারের অধ্যায়, বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্যপাল

তৃতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সাংবিধানিক মেয়াদ ছিল ৭ তারিখ অবধি। নিয়ম অনুসারে পুরোনো বিধানসভার কার্যকারিতা আর থাকে না…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট রামগোপাল ভার্মার

তাঁর দাবি, অনেক বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও এমন অবস্থান তাঁর কাছে অবাক করা বিষয়। তিনি মনে করেন যে…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

শুরু হয়েছে রাজ্যের নানা হলে ‘দ্যা বেঙ্গল ফাইলস’ দেখানোর পরিকল্পনা

টানা বিতর্ক ও আইনি জটিলতা অতিক্রম করে অবশেষে রাজ্যের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তির পথে এগোলো। শহরের পাশাপাশি জেলার বহু…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

চন্দ্রনাথের হত্যা নিয়ে মতামত জানালেন রুদ্রনীল-অগ্নিমিত্রা

ঘটনাটি নিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য তুলে ধরেন বিজেপি নেতা, তথা বিশিষ্ট অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেন যে…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top