দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সোমবার সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয় এসআইআর মামলার শুনানিতে, তা এক বিশাল হিসেবে দেখা হচ্ছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে। কী বক্তব্য তাদের? ঘাসফুল শিবির দাবি করেছে যে শীর্ষ আদালতের এই রায় রিফিউট করে দিল নির্বাচন কমিশনের একতরফা পদক্ষেপকে। শুধু তাই নয়, তারা এটাও দাবি করেছে যে সংবিধানকে হত্যা করার যে অপচেষ্টা করা হচ্ছিল, তা শীর্ষ আদালত রুখে দিয়েছে।
এদিন অন্য রাজ্য থেকে আনা মাইক্রো অবজারভারদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা পুরোপুরি ট্রেন্ড নন এমন জটিল এসআইআর কাজ করার বিষয়ে। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে তিনি এটাও জানান যে তাঁরা যদি সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে অজস্র নাম বাদ পড়তে পারে ভোটার তালিকা থেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, “শুধু সহযোগিতা করবেন মাইক্রো অবজারভাররা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। ইআরওই অন্তিম সিদ্ধান্ত নেবে।” এর সাথে এটাও পরিষ্কার করে দেওয়া হয় যে তাঁরা চিহ্নিত স্ট্যাচুয়েটরি অথরিটিকে শুধু অ্যাসিস্ট করবেন। পাশাপাশি আদালতের তরফ থেকে এটাও নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনকে যে তারা অল্প সময়ের মধ্যে ট্রেনিং দিয়ে মাইক্রো অবজারভার, ইআরও পদ দিতে পারবে রাজ্যের দেওয়া গ্রুপ বি অফিসারদের।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে এক বড় জয় হিসেবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের বক্তব্য, “নির্বাচন কমিশনের সেই একতরফা পদক্ষেপকে রিফিউট করে দিল শীর্ষ আদালতের এই রায়। যাতে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া যেতে পারে, তাই ভোটার ডেটাবেসের ব্যাকএন্ড অ্যাক্সেস দেওয়া হচ্ছিল বিজেপি অনুগতদের। সংবিধানকে হত্যা করার যে অপচেষ্টা চলছিল, তা রুখে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে এবং বাংলার জন্য একটা বিশাল জয়। যারা ভেবেছিল সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে, এটা তাদের জন্য এক বড় পরাজয়। এই লড়াই চলবে সাধারণ মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ভোটের পবিত্রতা রক্ষার।”



By










