দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বর্তমানে জোট নিয়ে বড় চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সিপিএম। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তো আসতে পারেইনি, বরং দিনদিন বিষয়টা আরো মাথাব্যথার হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদের জন্য। কংগ্রেস ও হুমায়ুন কবিরের দল জনতা উন্নয়ন পার্টির জন্য জোটের দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও আইএসএফের সঙ্গে এখনো আসনরফা নিয়ে সমস্যা চলছে। জানা যাচ্ছে, ৫০টি আসনের নিচে নামবে না আইএসএফ। কিন্তু তেমনটা হলে ক্ষুব্ধ হবে শরিকরা।
বর্তমানে শরীকদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু করা হয়েছে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর তরফ থেকে। রবিবার ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে বৈঠক হয়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে ৩০টি আসনের দাবি করা হলেও ফরওয়ার্ড ব্লককে ১২-১৫টি আসন ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। নওশাদ সিদ্দিকীদের সঙ্গে জোট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আগের দিন বৈঠক মাঝপথ থেকে ছেড়েছিলেন নরেন চট্টোপাধ্যায়। এদিনের বৈঠক নিয়ে তিনি মুখ খোলেননি। তবে তিনি বলেছেন যেন সকল শরিক দলগুলিকে সম্মানজনকভাবে মর্যাদা দেওয়া হয়।
জানা যাচ্ছে, গতবার নরেন চট্টোপাধ্যায়ের জনসম্মুখে অবস্থান জানানো ও মাঝপথে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসা নিয়ে রেগে গিয়েছিলেন মহাম্মদ সেলিম, বিমান বসু। ফরওয়ার্ড ব্লক অবশ্য আসনের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত দেখতে চায়। নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অশান্তি বা ঝগড়া বামপন্থীদের মধ্যে থাকলেও আলোচনার দ্বারা সেই সমস্যার সমাধান করা হবে।” পাশাপাশি, তিনি এটাও জানিয়ে দেন যে এক হয়ে লড়াই করবে বামেরা।
এদিকে আইএসএফ আবার আসন নিয়ে দর কষাকষি শুরু করেছে কংগ্রেসের জোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর। গতবার ৩২টি আসনে লড়েছিল তারা। এবার তারা লড়তে চাইছে ৫০টি আসন থেকে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সিপিএমের কাছে। কারণ আইএসএফকে অতটা আসন ছেড়ে দেওয়া একেবারেই ভালোভাবে নেবে না অন্যান্য শরীক দলগুলি। তারা ছাড়তে চাইবে না।
অন্যদিকে, সিপিএমের চিন্তা বাড়িয়েছে মিমও। দলের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি দাবি করেছেন যে তিনি সিপিএমের থেকে ফোন পেয়েছিলেন। যদিও সেই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে সিপিএম। তবে তৃণমূল তাদের খোঁচা দিতে ছাড়েনি। পাশাপাশি, হুমায়ুন কবীর এখনো তাদের সঙ্গে জোটে যেতে ইচ্ছুক। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও দাবি করেছেন যে সিপিএমের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর দলের প্রতি। সবমিলিয়ে, একটা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সিপিএম। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত এর সমাধান কিভাবে হয়।


By










