মিলল রাগার কথা, সংসদে এলেন না প্রধানমন্ত্রী

Image

দেবজিৎ মুখার্জি: যেমনটা সকালে দাবি করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, ঠিক তেমনটাই হল। সত্য হলো লোকসভার বিরোধী দলনেতার বচন। কী সত্য হলো? বুধবার সংসদে এলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন বিকেল পাঁচটায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের পর নামোর থ্যাঙ্ক-ইউ স্পিচ দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের হইচইয়ের ফলে স্পিকারের তরফ থেকে লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয় তার আগেই। 

বুধবার সংসদ চত্বরে এসেই সোনিয়াপুত্র প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বিতর্কিত বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে জানিয়েছিলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আসার সাহস নেই সংসদে। যদি উনি আসেন, তাহলে আমি সশরীরে ওনার কাছে যাব এবং বইটি নিজের হাতে ওনাকে দেব, যাতে উনি সেটা পড়তে পারেন এবং সত্যিটা গোটা দেশ জানতে পারে।” এর সঙ্গে বইটির গুরুত্বের কথা জানান রাহুল। তিনি বলেন, “দেশের যুবসমাজের জানা উচিত এই বইয়ের অস্তিত্বের কথা। নারাভানের বই এটা। এখানে লাদাখ নিয়ে পুরো বিষয় রয়েছে। আমি উদ্ধৃত করতে পারব না এই বইকে, আমায় বলা হয়েছে।” শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়। 

বলে রাখা ভালো, বুধবার একাধিক বিষয়ে তোলপাড় চলে সংসদে। মঙ্গলবার ৮ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আওয়াজ তোলার সময় হইচইয়ের কারণে। এছাড়া যখন মকরদ্বারের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসা হয়েছিল বিরোধীদের তরফ থেকে, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টুকে ‘গদ্দার’ বলেন রাহুল, যা ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। 

এছাড়া তৃণমূল, কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদেরা প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার হাতে নিয়ে এগোতে থাকেন গেরুয়া শিবিরের সাংসদদের দিকে। তখন অনুরাগ ঠাকুর, কিরেন রিজিজুরা আটকাতে গেলে পরিস্থিতি আরও দ্বিগুণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্পিকার বিরোধীদের বসার অনুরোধ করার পরও যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি, তখন তিনি অধিবেশন মুলতুবি করেন। এক কথায় বলতে গেলে, এদিন ব্যাপক অশান্তিতে জড়িয়ে পড়েন সকলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top