দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর ইস্যুতে উত্তপ্ত বাংলা। ২৮ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। কতজনের নাম থাকবে বা বাদ যাবে, সেদিকে নজর রয়েছে সকল রাজ্যবাসীর। এরই মাঝে বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কমপক্ষে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম। শুধু তাই নয়, তিনি এই অভিযোগ তোলেন যে কমিশনের তরফ থেকে গোপনে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে লজিকাল ডিসক্রিপেনসির নামে।
বুধবার ভবানীপুরে জৈন মানস্তম্ভ সহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাই বললেন। তাঁর বক্তব্য, “এসআইআর চলছে। আমি দুঃখিত অনেকের ভোটাধিকার বাদ গিয়েছে। প্রথমে বাদ গিয়েছে ৫৮ লক্ষ নাম। এরপর লুকিয়ে লুকিয়ে নাম বাদ দিচ্ছে লজিকাল ডিসক্রিপেনসির নাম করে। ২০ লক্ষ মৃত ভোটার ধরলে বাদ চলে যাবে ১ কোটি ২০ লক্ষের নাম। শীর্ষ আদালতে গিয়ে আমি নিজে লড়াই করেছি। এখনও স্থগিত আমার পিটিশন।”
তৃণমূল সুপ্রিমো আরো বলেন, “৪-৫ দিন হয়ে গিয়েছে কোর্টের বলার। কিন্তু কাজ এখনও পর্যন্ত শুরু হয়নি। আমার জানা নেই যে যখন ২৮ তারিখ তালিকা বেরোবে, তখন যাদের নাম বাদ পড়বে, তাঁদের কতটা দুঃখ হবে। কোন বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাক, তা আমি চাই না। দরকার নেই আমার জানার কে তৃণমূল, কে বিজেপি, কে সিপিএম, কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে বৌদ্ধ, কে জৈন। গণতন্ত্রের যেন ক্ষতি না হয়। যাতে সকলে অধিকার পায়। এটাই আমার দেখার।”
জৈন মানস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো অধিকার না ছিনিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, “ছিনিয়ে নেবেন না কারোর অধিকার। ফিরিয়ে দিন সকলকে তাঁর অধিকার। নিজে বাঁচুন এবং সকলকে বাঁচতে দিন।” প্রসঙ্গত, এসআইআর সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। তবে প্রশ্ন উঠছে যে আদৌ ২৮ তারিখের মধ্যে পুরো নথি যাচাই করে দেখার কাজ শেষ করা যাবে কিনা। তবে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ওইদিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতেই হবে এবং পরে প্রকাশ করা যেতে পারে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By









