দেবজিৎ মুখার্জি: বাংলায় এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকেই গোটা রাজ্যজুড়ে চলছে তোলপাড়। প্রতিনিয়তই তর্কে জড়াচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর নোটিস পান সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বহু স্বনামধন্য ব্যক্তি, যাঁদের মধ্যে অন্যতম নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, যা ঘিরে বয়ে নিন্দার বন্যা। তীব্র নিন্দা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা ঘাসফুল শিবির।
এবার রাজ্যে চলতি এসআইআর নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন অমর্ত্য সেন। বস্টন থেকে পিটিআইকে তিনি সাক্ষাৎকার দেন এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন এই ব্যাপারে। অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গের খুব তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না মানুষকে নিজেদের ভোটার প্রমাণ করার জন্য যাবতীয় নথি জমা দেওয়ার। এমনটা যদি হয়, তাহলে শুধু ভোটারদের প্রতিই নয়, দেশের গণতন্ত্রের প্রতিও অন্যায় হবে।”
প্রসঙ্গত, পিতার সঙ্গে মাত্র ১৫ বছর বয়সের পার্থক্য হওয়ায় এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছিল নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে। শুক্রবার রেড রোডে সুভাষ স্মরণের মঞ্চ থেকে সেই বিষয়টি তুলে কেন্দ্রকে তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এবার কি ওরা এটাও ঠিক করে দেবে কে কার সঙ্গে প্রেম করবে?” শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী এই প্রশ্নও তোলেন যে সন্তান জন্মানোর আগেও কি অনুমতি নিতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “শুনানিতে গেলে এখন প্রশ্ন করা হচ্ছে যে কীভাবে পাঁচ ছেলেমেয়ে? কীভাবে এত পার্থক্য কম বাবার সঙ্গে বয়সের? কোথায় জন্মশংসাপত্র? আরে হোম ডেলিভারি হতো তো ২০০২ সালের আগে। ৯০ বছরের বৃদ্ধাকে দেখছি হিয়ারিংয়ে নিয়ে যাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স করে। এটা অপমান মায়েদের, বয়স্কদের।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী রাগের সঙ্গে বলেছিলেন, “কে কবে বিয়ে করবে এবার ওরা ঠিক করে দেবে? ওরা ঠিক করে দেবে প্রেমটা? কে কি খাবে, কি পড়বে, অনুমতি নিতে হবে বাচ্চা জন্মানোর আগে?”



By














