দেবজিৎ মুখার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা: এবার ডিম থেরাপি হলো ধৃত তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর উপর। বৃহস্পতিবার বারাসত আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে উড়ে আসে একের পর এক ডিম। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় কোর্ট চত্বরে। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দেবরাজ চক্রবর্তীকে একসপ্তাহের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয় আদালতের তরফ থেকে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে অষ্টাদশ বিধানসভা ভোটের আগে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী, তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে ওঠে বিস্ফোরক অভিযোগ। ভোটের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিজনদের নামে হস্তান্তরের অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, সম্পত্তির আসল তথ্যও নির্বাচনী হলফনামায় লুকোনোর অভিযোগ ওঠে। এছাড়া তদন্ত শুরু হয় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট পরিচালনা ও জমি দখলের মতো নানা অভিযোগ নিয়েও।
গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে দুজনেই দ্বারস্থ হয়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের। কোর্ট ৪ মাসের শিশুসন্তানের কথা মাথায় রেখে আগাম জামিন দেয় অদিতি মুন্সিকে। তবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় তাঁর বিদেশযাত্রায়। পাশাপাশি তাঁর পাসপোর্ট জমা রাখারও নির্দেশ দেয়। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় বাগুইআটি থানা এলাকায় ঢোকার ক্ষেত্রেও। তবে দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। আদালত তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দেয় তদন্তের ব্যাপারে। সেই নির্দেশের পরই তিনি এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হন পুরুলিয়ার সদর থানা এলাকা থেকে। এদিন তাঁকে আদালতে তোলার সময়ে ডিম হামলার ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, দেবরাজ চক্রবর্তীর আর্থিক লেনদেন ও বিশাল পরিমাণ সম্পত্তির উৎস কি, তা খতিয়ে দেখতে আসরে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে তাদের তরফ থেকে। এই ব্যাপারে জোগাড় করা হচ্ছে বিস্তারিত তথ্য এবং তার ভিত্তিতে দিল্লিতে একটি রিপোর্ট পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হবে কিনা মামলা। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কী হয়। জল কতদূর গড়ায় বা এরপর কী হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে সমগ্র রাজনৈতিক মহল।



By










