দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: তারাতলায় বিপর্যয় ঘটনায় এবার নয়া মোড়! ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে গঠন করা হলো ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। স্বাভাবিকভাবেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন রাজ্যবাসী। অন্যদিকে গতকাল তিনজনকে গ্রেফতার করার পর এই ঘটনায় ধৃত আরো তিন। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা এখনো পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৫।
ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি নানা ইস্যুকে ঘিরে উত্তপ্ত। তার উপর নয়া সংযোজন তারাতলা বিপর্যয়। ঘটনা জনসম্মুখে আসতে যে গা শিউরে উঠেছে সকল রাজ্যবাসীর, তা না বললেও স্পষ্ট। যেই দৃশ্যগুলি প্রকাশ্যে এসেছে, তা দেখে বেশ আতঙ্কিত হয়েছেন সকলে। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। শুধু তাই নয়, শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।
এই আবহে সিট গঠন করল রাজ্য সরকার। পুলিশ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে এই বিশেষ তদন্তকারী দলের রয়েছে ৬ জন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় গভীর রাত অবধি জিজ্ঞাসাবাদের কমল সামন্ত এবং সৈয়দ মহম্মদ গুলজার নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকালে আরও তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। তাঁদের নাম শম্ভুনাথ বেহেরা, দীপঙ্কর ভাণ্ডারি এবং আব্দুল হামিদ। লালবাজারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই দুর্ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। আহতের সংখ্যাও অনেক। এখানেই শেষ হয়, কয়েকজনকে উদ্ধার করা হলেও এখনো ভিতরে আটকে রয়েছে একাধিক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং যাবতীয় সবকিছু খতিয়ে দেখেন। এরপর কড়া পদক্ষেপ নেন তিনি। তাঁর তরফ থেকে জানানো হয় যে জরুরি পরিষেবা বাদ দিয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত শহরের সব নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়টিও পরিষ্কার করে দেন যে এই সময়ের মধ্যে অডিট করা হবে সব নথিপত্র এবং পরিকাঠামো। আগামী ১ আগস্ট থেকে কাজ ফের শুরু করা যাবে যদি সব নথিপত্র ঠিক থাকে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কী হয়। কী হতে চলেছে আগামীদিনে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে সকল রাজ্যবাসী সহ গোটা রাজনৈতিক মহল।



By










