সই জাল কাণ্ডে শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডি

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সই জাল কাণ্ডে এবার বালিগঞ্জের বিধায়ক, তথা তৃণমূলের বর্ষিয়ান নেতা, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। যদিও ঘন্টাখানেক জিজ্ঞাসাবাদের পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন সিআইডির আধিকারিকরা। তৃণমূল বিধায়কের তরফ থেকেও পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি এই দাবিও তোলেন যেন অভিযোগকারীদের তদন্তের অধীনে আনা হয়। 

ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত, যার মধ্যে অন্যতম ‘সই জাল কান্ড’। বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই জোর হইচই পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, অস্বস্তি আরো বেড়েছে ঘাসফুল শিবিরের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে এই ব্যাপারে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছে গেরুয়া শিবির। যদিও তাদের তরফ থেকেও পাল্টা দেওয়া হয়েছে। 

তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে সিআইডির তরফ থেকে নেওয়া হয় একের পর এক বড় পদক্ষেপ। তৃণমূলের একাধিক বিধায়ককে নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নোটিশ পাঠানো হয়। শুরুতে একাধিকবার হাজিরা এড়ানোর পর অবশেষে তিনি আদালতের নির্দেশে হাজিরা দেন। বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে জোর আলোচনা চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। পাশাপাশি নানারকম প্রশ্নও যে উঠতে শুরু করেছে, তা না বললেও স্পষ্ট।

এবার সিআইডি হানা দিল বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের বাড়িতে। শনিবার সকালে তাদের দুই সদস্যের এক প্রতিনিধি দল সেখানে যান। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। এরপর আধিকারিকরা বেরিয়ে যান। অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে রাজি। যদিও তিনি এও জানান যে শুধু তাঁকেই নয়, অভিযোগ দায়ের করেছেন যাঁরা, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। কারণ, বৈঠকে অভিযোগকারীরাও ছিলেন। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। জল কতদূর গড়ায় বা এরপর কি হয়, তার দিকেই তাকিয়ে এখন গোটা রাজনৈতিক মহল।

Scroll to Top