দেবজিৎ মুখার্জি, বাঁকুড়া: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর গ্রেফতার ফলতার ত্রাস, তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত, জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী। ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশের হাতে তিনি গ্রেফতার হন বিষ্ণুপুরের জুলপিয়া থেকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবার সহ গোটা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কী হতে চলেছে এবার, এই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ মে থেকে। জাহাঙ্গীর খানের মুক্তির দাবিতে ফলতা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁর অনুগামীরা। পুলিশ সূত্রের দাবি, ধৃত জাহাঙ্গীরকে ছিনিয়ে নিতে এবং থানায় তাণ্ডব চালাতে পারে এই ভিড় বলে তাদের কাছে খবর ছিল। এরপরই ময়দানে নামে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠিচার্জ করা হয় বিক্ষোভকারীদের উপর। অনেকে আবার নিজেদের বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দেন। সেই ঘটনাকে ঘিরে দুটি সিসিটিভি ফুটে ভাইরাল হয়েছে।
পুলিশ সূত্র মারফত খবর, গোটা ঘটনায় নেতৃত্ব দেন পুস্পার পত্নী। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের তরফ থেকে এফআইআর দায়ের করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তরফ থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয় যে ঘটনায় যুক্ত কাউকে যেন রেয়াত না করা হয় এবং আশ্বাস দেন যে হামলাকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তোলা হবে। এরপরই জাহাঙ্গীর পত্নীর বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করা হয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনেও। শুক্রবারও পুষ্পার পত্নীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী এবং জানান যে প্রয়োজন হলে তাঁর সম্পত্তি নিলামে তোলা হবে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে।
অবশেষে গ্রেফতার করা হয় জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রীকে। জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন এক পরিচিতের বাড়িতে। এদিকে, থানায় হামলার ঘটনায় এই পর্যন্ত গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে ২৭ হয়েছে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। ঘটনার জল কতদূর পড়ায় বা এরপর কী হতে চলেছে, এই সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন এই মুহূর্তে ঘোরাফেরা করছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে। তবে ঘটনা যে শেষ হবে না এত সহজে, তা না বললেও স্পষ্ট।



By










