দেবজিৎ মুখার্জি: রাম মন্দিরের প্রনামি দুর্নীতির ঘটনায় চিন্তিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনটাই দাবি করলেন মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান, তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, নৃপেন্দ্র মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, “আমি বলব প্রধানমন্ত্রী চিন্তিত গভীরভাবে। একটা চিন্তা ভক্তদের টাকা নিয়ে। পাশাপশি তিনি চিন্তিত মন্দিরের সিস্টেম নিয়ে। এখানে কাজ করছে একটা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া সিস্টেম। আগামীদিনে কীভাবে এই সিস্টেমকে ভালো সিস্টেমে পরিণত করা যায়, সেটাই চ্যালেঞ্জ।”
তাঁর আরও বক্তব্য, “সিসিটিভি ফুটেজের মেয়াদও তো নির্দিষ্ট। ৪৫ দিন পর পাওয়া যায় না আর ফুটেজ। সেগুলি মুছে যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেভাবে। হ্যাঁ আপনি বলতে পারেন, সেগুলি সংরক্ষণ করা উচিত ছিল মুছে যাওয়ার আগেই। তবে সব জায়গায় তো সম্ভব নয় রেকর্ড রাখা বা সিসিটিভ রাখা।” তাঁর কথায়, “আপনি যদি গয়না দান করেন মন্দিরে, হিসাব থাকে সেটার। কিন্তু যারা সোজা টাকাপয়সা দিচ্ছে বিগ্রহের সামনে, সোনাদানা দিচ্ছে, কোনও হিসাব থাকে না সেগুলির।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাম মন্দিরের অনুদানের হিসেব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোটা অংকের টাকার গরমিলের অভিযোগ তোলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে অখিলেশ যাদব দাবি করেন, এটি বেশ উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক খবর বিশ্বের রাম ভক্তদের জন্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, হিসাব মিলছে না ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদানের এবং কেউ পরিষ্কার করে কিছু বলতে চাইছেন না এই বিষয়ে। এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র সীমিত নয় আর্থিক অনিয়মের প্রশ্নে, বরং রাম ভক্তদের বিশ্বাস ও আবেগের সাথে জড়িয়ে। আদালতের হস্তক্ষেপেরও দাবি জানান অখিলেশ।
প্রথমে ট্রাস্টের তরফ থেকে এই অভিযোগকে গুরুত্ব না দেওয়া হলেও পরে সন্দেহজনক ট্রানজ্যাকশনের হদিস মেলে। তাদের অনুরোধে যোগী আদিত্যনাথ নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশ সরকার গঠন করে সিট। ঘটনায় ইতিমধ্যে মন্দিরের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিনয় কাটিহার ও ব্রিজভূষণ শরণ সিং। তাতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের যে মুখ পুড়েছে, তা না বললেও চলে। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এবার দেখার বিষয় যে তদন্ত করে কী বেরিয়ে আসে। আগামীদিনে কোনও বিস্ফোরক তথ্য হাতে লাগে কিনা, সেদিকে নজর রয়েছে ইউপি সহ গোটা জাতীয় রাজনৈতিক মহলের।



By










