হাফিজুর রহমান: রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। এখানে এক আর একে দুই হয় আবার একের পিঠে এক দিয়ে এগারোও হয়। মমতার ক্ষমতায় আসার পেছনে যেমন কংগ্রেস ছিল তেমনই নকশালদের একটা অংশ মমতার জন্য পরিশ্রম করেছিল। আর অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি সেই সময় আরএসএও মমতার পেছনে দাঁড়িয়েছিল। মমতাকে যতই মমতাজ বেগম বলে ব্যঙ্গ করা হোক সিপএম কে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মমতাকে সাহায্য করে আরএসএস। উদহারন আন্না হাজারেকে শিখণ্ডী খাড়া করে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা। Power corrupts , absolute power corrupts absolutely……
আরএসএস-এর ঘোষিত শত্রু কমিউনিস্ট। কাজেই লেসার এভিল মমতাকে সাহায্য করা রনকৌশলের অঙ্গ। মমতা ক্ষমতায় এসে প্রথমে। কমিউনিস্টদের এমন দশা করলো যে এখন তাদের দূরবীণ দিয়ে দেখতে হয়। কংগ্রেস ভেঙ্গে যে তৃণমূলের উৎপত্তি সেই কংগ্রেসকে সাইন বোর্ডে পরিণত করল। আরএসএস-এর দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনায় এভাবেই মমতা নিজের অজান্তেই পরোক্ষভাবে সাহায্য করে বিজেপি নামের বিষবৃক্ষকে ক্ষমতায় আসতে।
আএসএসএ এক ঢিলে তিন পাখি মারলো। এক নম্বর, ঘোষিত শত্রু কমিউনিস্ট নামের জগদ্দল পাথর উপড়ে ফেলল। দ্বিতীয়,শত্রু কংগ্রেসকে কবর দিল। তৃতীয় ও সবথেকে মোক্ষম ফ্যাক্টর ক্ষমতার বোঝা মমতাকে ক্ষমতার অলিন্দ থেকে সরিয়ে ব্যাবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। বিজেপির ট্র্যাক রেকর্ড বলছে এরা সবার থেকে আলাদা। মিত্র বিজেডিকে ওড়িশায় পিঠে ছুরি মারল, নীতিশ কুমারকে দিল্লিতে আটকে বিহারে ক্ষমতায় আসা, শিবসেনাকে দু’টুকরো করে ক্ষমতা দখল, শরদ পাওয়ারের এনসিপিকে দু’টুকরো করা এদের বাঁয়া হাতের খেল।
প্রয়োজনে পায়ে তেল দিতে অপত্তি নেই, আবার প্রয়োজন ফুরোলে ঘাড় ধক্কা দিতে সময নেয়না। এই party difference, মমতায় প্রয়োজন ফুরিয়েছে। ক্ষমতায় এসেই এখন বিজেপি চাইছে মমতাকে সাইনবোর্ড বানাতে। এজন্যই বিভিন্নভাবে দেশের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটিয়ে মারতে চাইছে, কিন্তু মমতা ড্রইং রুমে ঠান্ডা ঘরে বসে রাজনীতি করে না। ওকে এভাবে উড়িয়ে দেওয়া মুশকিল হবে। বিজেপি জানে সেটা। মমতা কি ফিরবে ক্ষমতায়? এ প্রশ্নের জবাব নেই আমার কাছে, উত্তর জানা থাকলে কমেন্টে জানান।



By










