দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “বিজেপির তো দরজা বন্ধ, তাতেই উঠে গেল দলটা” তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দরজা মন্তব্য মনে করিয়ে খোঁচা দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, বিজেপির দরজা বন্ধ আছে, তাতেই দলের এমন দুরবস্থা। শুধু তাই নয়, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও এদিন নিশানা করেন দিলীপ ঘোষ।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এসে দাবি করেছিলেন যে ২০০র বেশি আসন পাবে গেরুয়া শিবির। কিন্তু তার ধারে-কাছেও আসতে পারেনি বিজেপি। এরপরই ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, “তৃণমূল কংগ্রেসের ঢুকবে বলে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিজেপি নেতারা। আমি তো বন্ধ রেখেছি গেট। খুললে তো সব উড়ে যাবে।” তখন গেরুয়া শিবিরের একাধিক নেতা-কর্মী যোগও দিয়েছিলেন ঘাসফুল শিবিরে।
কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পাল্টে যায় পুরো চিত্র। বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, ফলপ্রকাশের এক মাসও সময় হয়নি, তার আগেই দল কার্যত উঠে গেল। ‘নতুন তৃণমূল’ তৈরি হয়। ঘাসফুল শিবিরের এই তছনছ হওয়াকে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরোনো সেই মন্তব্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ভাইপো বলেছিল বিজেপি থাকবে না দরজা খুলে দিলে। আমাদের দরজা বন্ধ আছে তাতেই এই অবস্থা দলটার৷” পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করে তিনি বলেন, “হাকিম ঋতব্রতর হাত ধরলেন মমতার হাত ছেড়ে। উনি ধোঁকা দিয়েছেন হিন্দু ও মুসলিম সমাজকে। নইলে কেন বেরলেন হুমায়ন কবীর?”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল দুটি দফায় এবং ফলপ্রকাশ হয়েছিল মে মাসের ৪ তারিখে। দুশোর বেশি আসন নিজেদের নামে করে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে যায় একশোরও কম আসন। শূন্যের গণ্ডি পেরিয়েছে সিপিএম ও কংগ্রেস। অন্যদিকে, নিজেদের গড় ভাঙর ধরে রাখতে সফল হয় আইএসএফ। হুমায়ুন কবিরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টিও প্রথমবার ভোটের ময়দানে নেমে খাতা খুলেছে।
যদিও এবারের নির্বাচনে এসআইআরের কারণে বহু ভোটার ভোট দিতে পারেননি, যা ঘিরে জোর আলোচনা অব্যাহত রয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এছাড়া দেখা গিয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। প্রথম থেকেই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কোনরকম খামতি রাখা হয়নি।



By










