• Home
  • জেলার খবর
  • “শিক্ষার কী হাল” সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনায় মমতাকে নিশানা দিলীপের

“শিক্ষার কী হাল” সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনায় মমতাকে নিশানা দিলীপের

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “শিক্ষার কী হাল” সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে টাকা উদ্ধার ও বেডরুমের খোঁজ পাওয়ার ঘটনা নিয়ে এবার নিজের অবস্থান জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কী বললেন তিনি? ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি নিশানা করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি দাবি করেন যে সবটা জানতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে উদ্ধার হয় দুই ব্যাগ ভর্তি উইপোকায় খাওয়া টাকা। কিছুক্ষণের মধ্যে খোঁজ পাওয়া যায় দুটি বেডরুমেরও। অভিযোগ, তা ব্যবহার করতেন কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্য, তথা তৃণমূল নেতা, দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, ওরফে কানকাটা দেবু ও তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও অভিযোগ, এই ঘরেই ওই তৃণমূল নেতাদের মাসাজ দিতে হতো কলেজের চাকুরিরতদের। পাশাপাশি কনডোমের প্যাকেটও পাওয়া যায় কমনরুম থেকে। 

জানা যায়, তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুটি বেডরুম উদ্বোধন করেছিলেন টেরেস ফেসিলিটির নামে। বাবা-ছেলের কাছেই ঘরের চাবি থাকতো। আরো জানা যায়, দুটি বেডরুমেই রয়েছে অ্যাটাচ বাথরুম, এসি, খাট, দামি বিছানা। আলমারিতে রয়েছে বালিশ। অন্যদিকে, কলেজের ছাদে পাওয়া যায় বেশ কয়েকটি মদের বোতল। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, তিনি কিছুই জানেন না এই বেডরুমের ব্যাপারে।

বেডরুমগুলির খোঁজ পাওয়া যেতেই কলেজে পৌঁছন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। বেডরুমগুলিকে, সেখানে গিয়ে, কটাক্ষ করেন ‘ওয়ো রুম’ বলে। তাঁর উপস্থিতিতেই কন্ডোমের প্যাকেট পাওয়া যায় কলেজের কমনরুম থেকে। উইপোকায় খাওয়া টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক আর্জি জানান ইডি তদন্তের। তাঁর অভিযোগ, কলেজের দুর্নীতির টাকা সুদীপ ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি হয়ে যেত কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটে।

বুধবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন বিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, “শিক্ষার কী হাল! কলেজের নেতা দলের ছাত্রীকে ধর্ষণ করছে, খুন করা হচ্ছে চিকিৎসককে হাসপাতালে। সবটা জানতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” এবার দেখার বিষয় যে ঘটনার জল কতদূর গড়ায়। কী হয় শেষ পর্যন্ত, সেটাই এখন দেখার। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে যে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি আরো বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top