• Home
  • জেলার খবর
  • “স্পট ডেথ হয়ে যেত পারত” অভিষেকের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

“স্পট ডেথ হয়ে যেত পারত” অভিষেকের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “স্পট ডেথ হয়ে যেত পারত” সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, হেলমেট না পেলে স্পট ডেথ হতে পারত ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতির। শুধু তাই নয়, হুংকার দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো পরিষ্কার করে দেন যে এভাবে দমিয়ে রাখা যাবে না তাঁর দলকে।

বর্তমানে বঙ্গ রাজনীতি অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মীর পরিবারকে দেখতে যাওয়ার পথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা হওয়া। ঘটনা জনসম্মুখে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও গেরুয়া শিবির সেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এবং গোটা বিষয়টিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জনরোষের তকমা দেন।

সোমবার কালীঘাট থেকে ফেসবুক লাইভ করে বিষয়টি নিয়ে ফের ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যেভাবে অ্যাটাক করলেন অভিষেককে, তাদের গ্রেপ্তার করা হল যারা ওকে বাঁচাতে গেল। ছোট্ট গলি ছিল। যদি হেলমেটটা না পেত, স্পট ডেথ হয়ে যেত পারত। তারপর বেঁচে তো আছে বলছেন বিজেপির সভাপতি। ! আপনারাও তো বেঁচে ছিলেন। দুধে ভাতে রেখেছিলাম আপনাদের। যা করছেন আপনারা, ধিক্কার দিচ্ছে লোকে। নিজেদের মুখ দেখুন আয়নায়। অনুমতি দিচ্ছেন না মিটিং-মিছিলের।” হুংঙ্কার দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “দমিয়ে রাখা যাবে না এভাবে।”

উল্লেখ্য, গত শনিবার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারকে দেখতে যাওয়ার পথে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কামালগাজির কাছে তাঁকে কালো পতাকা দেখান মহিলারা। এরপর সোনারপুর ঢুকতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। পাশাপাশি ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। গাড়ি থেকে নেমে তিনি বাইকে চড়ে গন্তব্যে যেতে চাইলে সেখানে তাঁকে পড়তে হয় বিশাল বিক্ষোভের মুখে। হেলমেট পড়ে থাকায় তিনি রক্ষা পান কোনরকমে। এখানেই শেষ নয়, জামাকাপড় ছিড়ে মারধরও করা হয় তাঁকে। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে তিনি পৌঁছে যান মৃত দলীয় কর্মীর বাড়িতে। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি বেরিয়ে আসতেও সফল হন। 

কলকাতায় ফিরে বাইপাসের ধারের এক হাসপাতালে পৌঁছান। এরপর হুইল চেয়ারে বসিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পরে হাসপাতালের পোশাকে, হুইলচেয়ারে বসে বেরিয়ে আসেন ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি এবং গাড়িতে উঠে বেরিয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ট্রিটমেন্ট না করার অভিযোগ তোলা হয়। এরপর অভিষেককে নিয়ে যাওয়া হয় বেলভিউ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও বলা হয় যে তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে গোটা বিষয়টি বিজেপির চাপে হয়েছে বলে দাবি করেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতেই বিশ্রামে রয়েছেন হাসপাতালে পরিকাঠামোয়। চলছে পেন কিলার সহ একাধিক ওষুধ। এখনো তাঁর একাধিক ডাক্তারি পরীক্ষা বাকি বলে তিনি দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top