দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: জল্পনার অবসান! বিধানসভায় ঘাসফুল শিবিরের বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে সোমবার ভবানীভবনে হাজিরা দিচ্ছেন না তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র মারফত খবর, যেহেতু একাধিক ডাক্তারি পরীক্ষা এখনও বাকি এবং তাতে সময় লাগবে, তাই আরো কিছুটা সময় নিতে চান ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি। তিনি তদন্তকারীদের মেল করে কয়েক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন।
গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে বৈঠক করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম। উপস্থিত সকলেই তাতে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় প্রস্তাবনা জমা দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। শপথের পর বিধায়করা নিয়ম মেনে সই করেন। বিধানসভার সচিবের তরফ থেকে ঘাসফুল শিবিরের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চাওয়া হয়।
তা জমা দিতে কালীঘাটে ফের বৈঠক ডাকা হয় ১৯ মে। সেদিন অনেকে ছিলেন, আবার অনেকে ছিলেন না। দল উপস্থিত সকলের সই নেয়। কতজন গরহাজির মিলিয়ে দেখা হয়। পরে বিধানসভায় ৭০ জনের সই করা এক কাগজ জমা দেওয়া হয় প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে। প্রাক্তন শাসকদল জানায়, সেটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র এবং এখানেই শুরু গরমিল। দুই জায়গায় দলের বিধায়কদের সইয়ের অমিল দেখে সচিবের জালিয়াতি সন্দেহ হয় এবং থানায় করা হয় এফআইআর। তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে সিআইডি কাজ শুরু করে।
ইতিমধ্যেই আধিকারিকদের তরফ থেকে নোটিস পাঠানো হয় নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম, কুণাল ঘোষকে। শনিবার নোটিস দেওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। সোমবার তাঁকে তলব করা হয় ভবানীভবনে। তবে তাঁর হাজিরাকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা কারণ সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়ে তিনি চরম বিক্ষোভের সম্মুখীন হন। মারধর পর্যন্ত করা হয়ে তাঁকে। যদিও শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি মৃত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসেন। ফিরে তাঁর দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাও হয়। আপাতত তিনি বাড়িতেই বিশ্রামে রয়েছেন হাসপাতালে পরিকাঠামোয়। চলছে পেন কিলার সহ একাধিক ওষুধ।
এই পরিস্থিতিতে তাঁর ভবানীভবন গিয়ে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে সিআইডিকে জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র মারফত খবর, মেল করে তিনি জানিয়েছেন যে হাজিরার জন্য তিনি কয়েক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেই। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস সাংসদ, তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা, রাহুল গান্ধী তাঁকে ফোনে হায়দ্রাবাদ গিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। অভিষেক জানিয়েছেন, তাঁর একাধিক ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হবে এবং তারপর বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করার কথা ভাববেন। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










