দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। আঁচ পড়েছে জাতীয় রাজনীতিতেও। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সোমবার ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ কর্মসূচি করবে ঘাসফুল শিবির। দলের তরফ থেকে ঘোষণাটি করেছেন দলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক, তথা বিধায়ক কুনাল ঘোষ।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার থেকে। ঘোষণা অনুযায়ী ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত ও নিহত কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তাঁকে শিকার হতে হয় স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও হামলার। এর জেরে আহত হন ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি। ঘটনা জনসম্মুখে আসতেই হইচই পড়ে যায় বঙ্গ রাজনীতিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভিনরাজ্যের বিজেপি বিরোধী দলগুলির নেতারাও।
এই আবহে রবিবার কালীঘাট থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুনাল ঘোষ জানান যে ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সোমবার ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে দল। ২ জুন রানী রাসমণি রোডে অবস্থান কর্মসূচি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু পুলিশি অনুমতি মিলবে কিনা, সেটা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। তবে জানা গিয়েছে যে অনুমতি দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন শাসকদলকে। কিন্তু এই প্রশ্নও উঠছে যে কর্মসূচিতে তৃণমূলের নেতাদের দেখা যাবে কিনা। এই ব্যাপারে অবশ্য তৃণমূল বিধায়ক জানিয়েছেন যে এলাকার পরিস্থিতি দেখে তবেই কলকাতার কর্মসূচিতে আসবেন নেতারা।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারকে দেখতে যাওয়ার পথে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কামালগাজির কাছে তাঁকে কালো পতাকা দেখান মহিলারা। এরপর সোনারপুর ঢুকতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। পাশাপাশি ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। গাড়ি থেকে নেমে তিনি বাইকে চড়ে গন্তব্যে যেতে চাইলে সেখানে তাঁকে পড়তে হয় বিশাল বিক্ষোভের মুখে। হেলমেট পড়ে থাকায় তিনি রক্ষা পান কোনরকমে। এখানেই শেষ নয়, জামাকাপড় ছিড়ে মারধরও করা হয় তাঁকে। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে তিনি পৌঁছে যান মৃত দলীয় কর্মীর বাড়িতে। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি বেরিয়ে আসতেও সফল হন।
কলকাতায় ফিরে বাইপাসের ধারের এক হাসপাতালে পৌঁছান। এরপর হুইল চেয়ারে বসিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পরে হাসপাতালের পোশাকে, হুইলচেয়ারে বসে বেরিয়ে আসেন ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি এবং গাড়িতে উঠে বেরিয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ট্রিটমেন্ট না করার অভিযোগ তোলা হয়। এরপর অভিষেককে নিয়ে যাওয়া হয় বেলভিউ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও বলা হয় যে তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে গোটা বিষয়টি বিজেপির চাপে হয়েছে বলে দাবি করেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতেই বিশ্রামে রয়েছেন হাসপাতালে পরিকাঠামোয়। চলছে পেন কিলার সহ একাধিক ওষুধ। এখনো তাঁর একাধিক ডাক্তারি পরীক্ষা বাকি বলে তিনি দাবি করেছেন।



By










