দেবজিৎ মুখার্জি: ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত। সরকার গঠন করেই একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। এই আবহে শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে গ্রহণ করা হলো প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলা। আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চের তরফ থেকে।
কী পর্যবেক্ষণ বিচারপতিদের? তাঁদের পর্যবেক্ষণ, “এখনই বাতিল করা হচ্ছে না কোনও শিক্ষকের চাকরি। তবে যাঁরা শিক্ষা দিচ্ছেন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে, জানা প্রয়োজন যে তাঁরা আদৌ টেট উত্তীর্ণ কিনা।” মামলার শুনানি হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে অগাস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে জোর আলোচনা চলছে বঙ্গ রাজনীতিতে। নানা প্রশ্ন উঠছে বিষয়টি ঘিরে। একাংশে নজর রয়েছে যে শুনানি থেকে নতুনত্ব কিছু উঠে আসে কিনা।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের টেটের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৬ সালে। ২০২৩ সালের মে মাসে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁদের বলা হয় কর্মরত থাকতে। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, রাজ্যকে তিন মাসের মধ্যে শুরু করতে হবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া। তাতে বহাল থাকবে যোগ্য ও উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চাকরি। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পর্ষদ গিয়েছিল ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানির জন্য মামলাটি ওঠে তৎকালীন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে। মামলার শুনানি শেষ হয় গতবছর ১২ নভেম্বরে এবং স্থগিত ছিল রায়দান।
গতবছর ৩ ডিসেম্বর রায়দান করে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, বাতিল নয় প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি। নিজের পদে সকলেই বহাল রইলেন। কোর্টের রায়ে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক স্বস্তিতে। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, “পরিবারগুলির উপর বিশ্রী প্রভাবে পড়বে দীর্ঘ ৯ বছর পর চাকরি বাতিল করলে।” আবারও এই মামলাই গ্রহণ করল শীর্ষ আদালত। এবার দেখার শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










