• Home
  • দেশ
  • নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

Image

দেবজিৎ মুখার্জি: নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। বিভিন্ন মহল থেকে ধেয়ে আসছে সমালোচনা। ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এবার তারা গ্রেফতার করলো মূল অভিযুক্তকে। ধৃতের নাম পিভি কুলকার্নি। তিনি পুণের বাসিন্দা এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও যুক্ত ছিলেন এনটিএর নেওয়া নিট পরীক্ষার সঙ্গে। বর্তমানে তুমি কর্মরত নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেকচারার হিসেবে।

আধিকারিকদের মতে, ধৃত কুলকার্নি আসলে মহারাষ্ট্রের লাতুরের বাসিন্দা। তিনি বেশ কয়েকবছর ধরে যুক্ত ছিলেন নিটের প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী কমিটির সাথে এবং তা হাতিয়ার করে গঠন করা হয়েছিল প্রশ্নফাঁসের এক বিশাল চক্র। রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্তর তরফ থেকে একটি কোচিং ক্লাসের বন্দোবস্ত করা হয় নিজের বাড়িতে গত এপ্রিলের অন্তিম সপ্তাহে। এখানে তিনি সাহায্য নেন আরেক অভিযুক্ত মনীষা ওয়াঘমারের, যাঁকে সিবিআই গ্রেপ্তার করে চলতি মাসের ১৪ তারিখে। দাবি করা হচ্ছে যে কোচিংয়ে প্রশ্ন-উত্তর কুলকার্নি বিস্তারিতভাবে জানিয়ে দেন। পরে দেখা যায় যে ৩ তারিখের পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের সাথে তা পুরোপুরি মিলে গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ মে গোটা দেশে হয়েছিল নিট ইউজি পরীক্ষা। তবে তা শেষ হতেই জনসম্মুখে আসে নানা রাজ্যে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। বিশেষ করে বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে রাজস্থানে তদন্তে। অভিযোগ, একাধিক পরীক্ষার্থীর হাতে, পরীক্ষার অন্তত ১ মাস আগে, সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল। তদন্তকারীদের বক্তব্য, মূল পরীক্ষার সঙ্গে পুরো মিলে গিয়েছে সেই তথাকথিত প্রশ্নপত্রের একাধিক প্রশ্নই। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলেছে উত্তর বিকল্পও। 

ঘটনাকে ঘিরে আলাদা মাত্রায় পৌঁছে যায় রাজনৈতিক তরজা। মোদি সরকারকে নিশানা করে আক্রমণ করে বিরোধীরা। অবশেষে চাপে পড়ে নিট ইউজি ২০২৬ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) তরফ থেকে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ঘটনার তদন্তের। পরীক্ষার নয়া দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। 

এরপর থেকেই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছিল যে কবে ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে। অবশেষে তা জানিয়ে দিল এনটিএ। ২১ জুন পরীক্ষা নেওয়া হবে। আগেই এনটিএর তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে ফের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পড়ুয়াদের আর নতুন করে আবেদন করতে হবে না বা আলাদা করে দিতে হবে না কোনও ফি। পরীক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে আগেরবার পরীক্ষার জন্য জমা করা অর্থও। ফের অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে হবে নয়া পরীক্ষার জন্য, যা পাওয়া যাবে এনটিএ ওয়েবসাইট থেকে। যদিও এখনও জানা যায়নি, তা কবে থেকে পাওয়া যাবে।

তবে নিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় দুর্নীতি ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল কেন্দ্রের তরফ থেকে। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে লিখিতর পরিবর্তে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হবে কম্পিউটারে। পরের বছর থেকে অনলাইনে হবে পরীক্ষা। 

ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্য, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে কোনরকম ক্ষতিকারক কাজকর্ম মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “কমান্ড চেনে ত্রুটি ছিল রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করা সত্ত্বেও। তা স্বীকার করছি আমরা এবং দায়িত্ব নিচ্ছি এটি উন্নত করার।” তাঁর সংযোজন, নিটের মতো কঠিন পরীক্ষা বারবার দেওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার সমান এবং সেই কারণে প্রশ্নফাঁস সম্পূর্ণভাবে ঠেকাতে পাল্টে যাবে পদ্ধতি। আগামী ২১শে জুন লিখিতভাবে পরীক্ষা নেওয়া হলেও পরের বছর থেকে ডিজিটাল হয়ে যাবে। পরীক্ষার্থীদের অনলাইন পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে দিতে হবে পরীক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top