দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: প্রায় ১৫ বছর পর রাজ্যে দেখা গেল পালাবদল। প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইতিহাস গড়ল বিজেপি। তবে শুধু জয় নয়, একেবারে বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে জয় নিজেদের নামে করেছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, রীতিমতো ভরাডুবি হয়েছে ঘাসফুল শিবির। এক কথায় বলতে গেলে, গেরুয়া ঝড়ে একেবারে ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ সংগঠনের হাল মজবুত করা। বিষয়টি সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই একাধিকবার বৈঠক করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এই পরিস্থিতিতে কি করনীয়, তা জানিয়েছেন।
এবার শুক্রবার, তৃণমূল ভবনে, সাংবাদিক বৈঠক করে বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের কি ভূমিকা, তা তুলে ধরলেন দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা, তথা বেলেঘাটার বিধায়ক, কুনাল ঘোষ। তিনি পরিষ্কার করে দেন যে সদ্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার, তাই তৃণমূল কংগ্রেস সব সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে যাবে না। তাঁর বক্তব্য, “সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের পর্যবেক্ষণ হবে। তারপর যদি ভুল-ত্রুটি থাকে, তাহলে বিরোধিতা করা হবে। গঠনমূলক বিরোধিতা হবে জনস্বার্থ বিরোধী হলে। কিন্তু প্রথম থেকে বিরোধিতা করা হবে না কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েই।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং এর সঙ্গে শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By











