দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হামলার শিকার হতে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের। আহত ও নিহত হয়েছেন অনেকে। এই আবহে বিষয়টি নিয়ে সরব হন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকল দলকে একত্রিত হওয়ার ডাক দেন রাজ্যের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেত্রী।
শনিবার, ৯ মে, রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে কালীঘাটে দলের একাধিক বিধায়ক ও নেতাকে নিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি বিজেপি বিরোধী দলগুলি সঙ্গে জোট বাঁধার আবেদন জানান। এর সঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে প্রতিবাদে মুখর হন। এই পরিস্থিতিতে কি করণীয়, তা নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, তোলেন ২০১১ সালের প্রসঙ্গও।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে মহিলাদের এবং এই সমস্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং শেকরের টানে তিনি ডাক দেন সকল দলকে একত্রিত হওয়ার। তাঁর বক্তব্য, যখন তিনি ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন তিনি করতে দেননি কোনও অত্যাচার। এমনকি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছে তিনি তাঁর বুলেটপ্রুফ গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তবে এবারের ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর চারিদিকে হচ্ছে সন্ত্রাস।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
এরপরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে হিংসার চিত্র। বিভিন্ন জেলায় আক্রান্ত হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের দিকে। যদিও ঘাসফুল শিবিরের তোলা অভিযোগে গুরুত্ব দেয়নি বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে হিংসার একাধিক ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে জোর আলোচনা চলছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে।



By








