দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে পারেন কুণাল ঘোষ। তবে তা যে সত্যি নয়, তা সাফ জানিয়ে দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর বক্তব্য, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে তিনি এও পরিষ্কার করে দেন যে এক ইঞ্চিও পিছিয়ে আসবেন না লড়াই থেকে।
কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূলে ছিলাম, আছি এবং থাকব। যদি সুসময়ে দলে থেকে থাকি, তাহলে কেন ছেড়ে যাব দুঃসময়ে? আমি লড়াই থেকে এক ইঞ্চি পিছিয়ে যাওয়ার ছেলে নই।” তাঁর সংযোজন, এই কঠিন সময়ে এখন একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত দলের সকলকে সম্মিলিতভাবে থাকাই। পাশাপাশি, আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোই এখন প্রধান কাজ বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তিনি তা নিষ্ঠার সঙ্গে করবেন। এছাড়া যাঁরা ভোটের ফল দেখে দল পাল্টাচ্ছেন, তাঁদের ‘হাওয়া মোরগ’ তকমা দেন কুণাল। তিনি বলেন, “যারা হাওয়া মোরগ, তারা এসেছিল, আবার চলেও যাবে। কিন্তু আমি ছাড়ছি না লড়াইয়ের ময়দান।” তিনি বারংবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে নির্বাচনের ফলাফল দেখে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। এবার দেখার বিষয় যে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হন।



By










