জয় হবে তৃণমূলেরই! কেন মনে করছেন গোলাম মীর?

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আর মাত্র তিনটে দিন! তারপরই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে কারা ক্ষমতায় আসবে রাজ্যে। ইতিমধ্যেই ভোটের ফলাফল নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যবাসীর। কেউ মনে করছেন যে ক্ষমতা ধরে রাখবে তৃণমূল কংগ্রেস, আবার অনেকে মনে করছেন যে সরকার গঠন করবে বিজেপি। বলা ভালো, দুই দলেরই জেতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজ্যবাসী। 

এই আবহে একাধিক এক্সিট পোল দেখাচ্ছে যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে গেরুয়া শিবির। যদিও রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা তৃণমূল কংগ্রেস, তা গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের মতে, বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল কংগ্রেস। জয় যে এবারও তৃণমূলের হবে, তা মনে করছেন কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম মীর। তাঁর মতে, এক্সিট পোল যা দাবি করছে, তার উল্টোটা হবে। 

মীর বলেন, “খুব সচেতন বাংলার ভোটাররা। রাজ্যে সাইলেন্ট ভোট হয়েছে। কাউকে বুঝতে দেননি ভোটাররা যে তাঁরা কাকে ভোট দিয়েছেন। কারণ তৃণমূলকে সমর্থনের কথা বিজেপি জানতে পারলে, তারা অশান্তি করবে। আবার বিজেপিকে সমর্থনের কথা তৃণমূল জানতে পারলে, তারা অশান্তি করবে। কারণ এই দুজনেই মূল যুযুধান দল। তবে মনে রাখতে হবে যে রাজ্যে মোট ভোটারের ৫০ শতাংশ মহিলা, যাঁদের মধ্যে তৃণমূল পাবে অন্তত ৬০ শতাংশ ভোট। আমাদের বিশ্বাস তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে বিজেপির ঘরের মহিলারাও।”

কোন যুক্তিতে এত বড় দাবি করলেন মীর, তাও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, “সুবিধা পাবে তৃণমূল সরকারের থাকার। বিভিন্ন পরিষেবা, বিশেষ করে পরিবারপিছু আর্থিক ৮-১০ হাজার টাকার অনুদানের সুফল সরাসরি তারা পাবে। তাছাড়া ওদেরই একমাত্র সাংগঠনিক শক্তি ভালো রাজ্যে। বাম তো শূন্য হয়ে গিয়েছে, দুর্বল কংগ্রেস, আর বিজেপি কথা বলে হাওয়ায়। কোনও সংগঠন নেই। সুতরাং যে ফল এক্সিট পোল দেখাচ্ছে, তার উল্টোটা হবে। মিলিয়ে নেবেন ৪ তারিখে।” পাশাপাশি, তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি ও তৃণমূল, থ্রেট ছিল দুটো দলেরই। সেই কারণেই কংগ্রেসের তরফ থেকে তৃতীয় শক্তির কথা বলা হয়েছিল।” তবে তিনি এটাও পরিষ্কার করে দেন যে যদি এককভাবে সরকার গঠন না করতে পারে ঘাসফুল শিবির, তাহলে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে কংগ্রেস এবং দরকার পড়বে তাঁদের সমর্থনের। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top